অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে চীন, রাশিয়া ও ভারতের অঙ্গীকার
নয়াদিল্লিতে দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন শেষ হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের শেষ দিনে চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্রিকসের শক্তি হলো সদস্য দেশগুলোর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।
মোদী জানান, ব্রিকসের দেশগুলো বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি এই জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্ব
সম্মেলনে মোদী বলেন, বিভিন্ন দেশের বাস্তবতা ও পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও সহযোগিতার মাধ্যমে সবাই এগিয়ে যেতে পারে। ব্রিকসের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, যেখানে সবাই অংশ নিতে পারে।
তিনি বলেন, ভিন্ন বাস্তবতায় অবস্থান করলেও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলো একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে এবং মানবতার জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে।
বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার কথা পুতিনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ব্রিকস একটি নতুন ও আরও ন্যায্য বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিয়ম ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিয়মহীন বিশ্ব অনেকটা ট্রাফিক সিগন্যালবিহীন একটি মোড়ের মতো—যেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়া অনিবার্য।
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ
সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবারের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুদ্ধ নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে পারেননি। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সংঘাত নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।
তবে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর এবার ব্রিকস নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দিতে সক্ষম হন। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে সংঘাতের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে ভারতের ভারসাম্য
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গেও ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে তৈরি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত রাশিয়ার দিকেও ঝুঁকেছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের চাপ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সদস্য দেশগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম


