ব্রিজের নিচে পড়ে ছিলেন যুবক, প্রাণ গেল হাসপাতালে
রংপুরের কাউনিয়ায় বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে মতিউর রহমান (২৬) নামের এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
মতিউর রহমান পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার ছোট ধাপ এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষজাতীয় ওষুধ খাওয়ার কারণে মতিউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কাউনিয়া থানার এসআই ব্রজ গোপাল কর্মকার জানান, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় লোকজন উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু এলাকায় বেইলি ব্রিজের নিচে ওই যুবককে অচেতন অবস্থায় পানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওই যুবক কিছু বলতে পারছিলেন না।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরের দিকে তিনি মারা যান। তবে ঘটনাস্থলে উদ্ধারের সময় ওই যুবকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে এসআই ব্রজ গোপাল কর্মকার জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বের হন মতিউর রহমান। এরপর তার সন্ধান পাননি স্বজনরা। পরে বিকেলে তারা জানতে পারেন, স্থানীয় লোকজন কাউনিয়ায় বেইলি ব্রিজের নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় মতিউরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এরপর স্বজনরা রাতে হাসপাতালে যান।
ব্রজ গোপাল কর্মকর্তা আরও বলেন, কী কারণে ওই যুবক পঞ্চগড় থেকে কাউনিয়া উপজেলা এলাকায় এসে বিষ খেয়েছেন বা কেউ তাকে বিষজাতীয় কিছু খাইয়ে হত্যা করেছেন কি-না, তার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মেহেদি হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ওই যুবক বিষজাতীয় ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অনেক আগে বিষ খাওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জিতু কবীর/এসআর/এএসএম



