বিচার চেয়ে রুনির ভাইয়ের আবেদন, যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু, তা এখনো জানেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রুনির ভাই নওশের আলম ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নওশের আলমের আবেদনটি তারা খতিয়ে দেখবেন। এ হত্যাকাণ্ড ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক’ (ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগত) অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। যদি এর আওতায় না পড়ে, তাহলে বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি পড়ে, তাহলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আজ নওশের আলম একটি লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করুক। অথবা তদন্তে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দিয়ে সহযোগিতা করা হোক।
আমিনুল ইসলাম বলেন, নওশের আলম যে আবেদন দিয়েছেন, সেটার ওপর তদন্ত করার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আছে, তা আমি জানি না। আবেদনটি তারা দিয়েছেন, আমরা খতিয়ে দেখবো।
আবেদনে যা বলা হয়েছে
নওশের আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি।
হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও এখনো এ মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র্যাবের পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে।
তবে টাস্কফোর্স গঠনের প্রায় দুই বছর হতে চললেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
নওশের আলম আবেদনে বলেন, পরিবারের সদস্যরা চান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনুক। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগটি ‘কমপ্লেইন্ট’ হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানান তিনি।
যেভাবে তদন্ত এগিয়েছে
সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার যায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি)। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব।
ঘটনার এক যুগ পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। গত বছরের নভেম্বরে র্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।
আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
এফএইচ/ইএ



