সাভারে পুলিশ হত্যায় আরও এক আসামি রিমান্ডে
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় লালন নামে আরও এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহম্মেদ একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আরিফ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে লালনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে একই মামলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধান আসামি জহুরুলকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় আবুল কালাম আজাদের অটো গ্যারেজের সামনে একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে চালকের কথা কাটাকাটি হয়।
ওই বিরোধ থামাতে এগিয়ে যান ছুটিতে থাকা এসবি কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হলে নিজের নিরাপত্তার জন্য আলতাফ হোসেন সেখান থেকে সরে গিয়ে তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন।
এজাহারে বলা হয়, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই দোকানে হামলা চালায়। তারা রড, লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশ বাক্স থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তে এরই মধ্যে প্রধান আসামি জহুরুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এবার লালনকেও একদিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিলেন আদালত।
এমডিএএ/বিএ


