পাকিস্তানের ষষ্ঠ হোয়াইটওয়াশ, তিন ম্যাচের সিরিজে সেঞ্চুরি নেই একটিও
বার্মিংহামের এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজের তৃতীয় টেস্টেও হেরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। এই সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতা, রেকর্ডসংখ্যক ছক্কা ও বোলিংয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে হয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো দেখে নিন-
২: পাকিস্তানকে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করলো ইংল্যান্ড। এর আগে ২০২২ সালে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
৬: গত চার বছরে দুই বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ৬ বার। অর্থ্যাৎ, শেষ ১২ সিরিজের মধ্যে ছয়বারই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা।
৮: তিন বা তার বেশি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কোনো ব্যাটারের সেঞ্চুরি না পাওয়ার ঘটনা এই ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজসহ অষ্টমবার। ইংল্যান্ডে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল মাত্র একবার- ১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে।
২০: এই সিরিজে করা ফিফটির সংখ্যা। কোনো সেঞ্চুরি ছাড়া টেস্ট সিরিজে এটিই সর্বোচ্চ ফিফটি। এর মধ্যে বার্মিংহ্যাম টেস্টেই হয়েছে ১১টি ফিফটি, যা কোনো সেঞ্চুরি না থাকা টেস্টে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
৮.৭৬: সিরিজে ২০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে অলি রবিনসনের বোলিং গড়। সিরিজে ২০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এটি ষষ্ঠ সেরা। রবিনসনের চেয়ে ভালো গড়ের পাঁচজনই ইংল্যান্ডের বোলার। সর্বশেষ এমন কীর্তি ছিল টনি লকের- ১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ উইকেট, গড় ৭.৪৭।
৪.৬৬: সিরিজে পাকিস্তানের প্রথম দুই উইকেটের জুটির গড়। ছয় ইনিংসে প্রথম দুই উইকেটে তারা যোগ করেছে মাত্র ৫৬ রান। অন্তত পাঁচ ইনিংসের কোনো টেস্ট সিরিজে প্রথম দুই উইকেটে এটি যে কোনো দলের সবচেয়ে বাজে গড়।
৩: ২০২৬ সালসহ ঘরের মাঠে জো রুটের সেঞ্চুরিবিহীন টেস্ট মৌসুমের সংখ্যা। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালেও ঘরের মাঠে সেঞ্চুরি পাননি তিনি। ২০২৬ সালে ছয় টেস্টে রুটের ব্যাটিং গড় ৩৩.৫০, যা এক বছরে তার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। সর্বনিম্ন ২৯.৮৩, ২০১৯ সালে।
৮: চলতি মৌসুমে ১১ ইনিংসে এলবিডব্লিউ হয়ে ৮ বার আউট হয়েছেন রুট। একটি টেস্ট মৌসুমে কোনো ব্যাটারের এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ।
৯: অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজাউল্লাহর মারা ছক্কার সংখ্যা। টেস্ট অভিষেকে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় এটি যৌথভাবে সেরা। ২০০৮ সালে নেপিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই সংখ্যক ছক্কা মেরেছিলেন টিম সাউদি।
১: ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যার হিসাবে রাজাউল্লাহর ৯টি ছক্কা যৌথভাবে প্রথম। ২০২৩ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেন স্টোকসও ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন।
৯: পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারের এক টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার হিসাবে রাজাউল্লাহর সংখ্যা যৌথভাবে দ্বিতীয়। সবার ওপরে ওয়াসিম আকরাম- ১৯৯৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২টি ছক্কা মারেন তিনি।
৮: রাজাউল্লাহর ৯টি ছক্কার মধ্যে ৮টিই এসেছে পেসারদের বিপক্ষে। টেস্টের এক ইনিংসে পেস বোলারদের বিপক্ষে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন শুধু নাথান অ্যাসল- ১০টি। ২০২৩ সালে লর্ডসে পেসারদের বিপক্ষে ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন স্টোকসও।
১: টেস্ট অভিষেকেই ফিফটি ও চার উইকেট নেওয়া প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার রাজাউল্লাহ। সব মিলিয়ে টেস্ট অভিষেকে এই ডাবল করা ১৭তম ক্রিকেটার তিনি। এদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ; ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়ার সময় সাউদির বয়স ছিল ১৯ বছর।
২: বার্মিংহ্যাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম দুই উইকেটে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান মিলে যোগ করেছে মাত্র ২ রান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দুই উইকেটে যৌথভাবে এটিই সর্বনিম্ন রান। তবে দুই দলই এরপর তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে, যা দুই বা তার কম রানে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ পাঁচ জুটির মধ্যে রয়েছে।
১: টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস দুটি করে উইকেট নেন। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম দুই দলের ইনিংসের প্রথম ওভারেই একাধিক উইকেট পড়ল।
৪৪৯: প্রথম দুই উইকেট শূন্য রানে হারানোর পর পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে করা ৪৪৯ রান। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দলের দ্বিতীয় ইনিংসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। রেকর্ডটি ভারতের- ১৯৮৩ সালে চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৫১/৮।
আইএইচএস/


