একজন বেশি নিয়েও পারলো না ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সিটির জয়

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নাটক, বিতর্ক আর উত্তেজনার শেষটা হলো ম্যানচেস্টার সিটির জয় দিয়ে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববারের ১৯৯তম ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। জয়সূচক গোলটি করেছেন আরলিং হালান্ড। তবে, ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রে গোলের চেয়ে...

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নাটক, বিতর্ক আর উত্তেজনার শেষটা হলো ম্যানচেস্টার সিটির জয় দিয়ে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববারের ১৯৯তম ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। জয়সূচক গোলটি করেছেন আরলিং হালান্ড।

তবে, ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রে গোলের চেয়েও বেশি জায়গা করে নিয়েছে রেফারির দুটি সিদ্ধান্ত- ফিল ফোডেনের লাল কার্ড এবং হালান্ডের বিতর্কিত গোল।

পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর দুই দলের প্রথম মুখোমুখি লড়াই ছিল এটি। গ্রীষ্মের দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এলেও হালান্ড যেন রয়ে গেছেন ইউনাইটেডের চেনা আতঙ্ক হয়ে।

এই ম্যাচেও সেটিই প্রমাণ করেছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে নিজের নবম গোল করে এই ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্বও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে ২৩ মিনিটে ফিল ফোডেনকে লাল কার্ড দেখানোর পর ম্যাচের চিত্রই যেন বদলে যায়। ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি কিকের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন ফোডেন। রেফারি সেটিকে শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর সিটি বড় ধাক্কা খেলেও ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়নি। বরং ইউনাইটেড সেই বাড়তি একজন খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। একের পর এক আক্রমণ করেও তারা কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করতে পারেনি।

স্বাগতিকদের হয়ে মার্কাস রাশফোর্ড ও কোবি মেইনু গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। দুজনের প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত গোলের বদলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও সিটির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইউনাইটেড।

এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত। ৬০ মিনিটে হালান্ডকে প্রথমে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু, ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। অফসাইডের সিদ্ধান্ত বাতিল করে হালান্ডের গোল বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইউনাইটেড শিবিরে। শুরুতে অফসাইড দেওয়ার পর কীভাবে সেটি বাতিল হলো, তা নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ।

সিটির জন্য অবশ্য সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে ম্যাচ জয়ের মুহূর্ত। হালান্ড সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান এবং ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলেও সেই লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে সিটি।

ম্যাচের শেষদিকে ইউনাইটেড সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। যোগ করা সময়ে ব্রায়ান এমবেউমো প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন। কিন্তু, সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তার সেই সেভই শেষ পর্যন্ত সিটির জয় নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সিটির খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। নতুন কোচ এনজো মারেস্কাও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে যান সিটি সমর্থকদের দিকে। একদিকে ডার্বির জয়, অন্যদিকে একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও তিন পয়েন্ট আদায়-সব মিলিয়ে তার উদযাপনও ছিল স্মরণীয়।

তবে, জয় পেলেও সিটির এই ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক সহজে থামছে না। ফোডেনকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত এবং হালান্ডের গোলের আগে-পরের অফসাইড সিদ্ধান্ত-দুটিই ম্যাচের পর আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মাঝেও হালান্ডের একমাত্র গোলেই ম্যানচেস্টার ডার্বির তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরেছে সিটি। আর ইউনাইটেডের সামনে রয়ে গেল আরও বড় হতাশা। এ জয়ে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে ২য় স্থানে সিটি। গোল ব্যবধানে আর্সেনালের চেয়ে পিছিয়ে তারা। ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

আইএইচএস/এএমএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/sports/football/1156911
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World