একটি ছবি বানাতে এআই কতখানি পানি খরচ করে জানেন?

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
সকালে ঘুম থেকে উঠে পছন্দের একটি ছবি বানাতে এআইকে নির্দেশ দিলেন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেল বাস্তবসম্মত ছবি। কখনো নিজের কার্টুন সংস্করণ, কখনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনার চরিত্র, আবার কখনো সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আকর্ষণীয় কভার ছবি। জেনারেটিভ এআই আসার পর ...

সকালে ঘুম থেকে উঠে পছন্দের একটি ছবি বানাতে এআইকে নির্দেশ দিলেন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেল বাস্তবসম্মত ছবি। কখনো নিজের কার্টুন সংস্করণ, কখনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনার চরিত্র, আবার কখনো সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আকর্ষণীয় কভার ছবি। জেনারেটিভ এআই আসার পর ছবি তৈরির এই কাজ যেন খেলায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু পর্দার ওপারে চলা এই ‘খেলা’র জন্য যে বিদ্যুৎ, শক্তিশালী কম্পিউটার আর পানির প্রয়োজন হয়, তা অনেকেই ভাবেন না।

বিশেষ করে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করতে গিয়ে কতটা পানি খরচ হচ্ছে এই প্রশ্ন এখন গবেষকদেরও ভাবাচ্ছে।

এআই নিজে অবশ্য কল খুলে পানি খায় না। আসল পানি লাগে বিশাল ডাটা সেন্টারে থাকা শক্তিশালী সার্ভার ঠান্ডা রাখতে। এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া বা নতুন ছবি তৈরির সময় বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন হয়। সার্ভারগুলো কাজ করতে করতে গরম হয়ে যায়। সেই তাপ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, যার কিছুতে সরাসরি পানি প্রয়োজন হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, জেনারেটিভ এআইয়ের পানি ব্যবহার নির্ভর করে মডেল, ডাটা সেন্টারের অবস্থান, আবহাওয়া, কুলিং পদ্ধতি এবং বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে এসব বিষয়ের ওপর। তাই সব এআই টুলের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা ঠিক নয়।

তবে একটি বহুল আলোচিত গবেষণায় হিসাব করা হয়েছিল, একটি মাঝারি আকারের জেনারেটিভ এআই মডেল দিয়ে কয়েক ডজন অনুরোধ বা প্রম্পট চালালে প্রায় আধা লিটার পানি ব্যবহারের সমপরিমাণ পানি-ব্যয় হতে পারে। তবে এই হিসাব মূলত নির্দিষ্ট মডেল, ডাটা সেন্টার ও ব্যবহারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। তাই ‘একটি ছবি মানেই ঠিক এত মিলিলিটার পানি’ এমন দাবি করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

এআই দিয়ে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। একটি সাধারণ ছবি তৈরি করতে কম কম্পিউটিং শক্তি লাগলেও উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি, একাধিক সংস্করণ তৈরি, বারবার রিজেনারেট করা কিংবা জটিল নির্দেশনা দিলে প্রসেসিংয়ের চাপ বাড়তে পারে। ফলে বিদ্যুৎ ও কুলিংয়ের প্রয়োজনও বাড়ে।

পানি ব্যবহারের আরেকটি বড় দিক হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন। ডাটা সেন্টার সরাসরি পানি ব্যবহার করার পাশাপাশি যে বিদ্যুৎ দিয়ে চলে, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অনেক সময় পানি প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ এআইয়ের ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ শুধু সার্ভারের কুলিংয়েই সীমাবদ্ধ নয়।

সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন ডাটা সেন্টার এমন এলাকায় স্থাপন করা হয়, যেখানে আগে থেকেই পানির সংকট রয়েছে। একদিকে মানুষ কৃষিকাজ, খাবার ও দৈনন্দিন জীবনের জন্য পানি ব্যবহার করছে, অন্যদিকে বাড়ছে ডাটা সেন্টার ও এআই সেবার চাহিদা। ফলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতের পানি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।

তবে এর মানে এই নয় যে এআই দিয়ে ছবি তৈরি বন্ধ করে দিতে হবে। বরং প্রয়োজন দায়িত্বশীল ব্যবহার। অপ্রয়োজনে একই ছবি শতবার তৈরি করা, সামান্য পরিবর্তনের জন্য বারবার নতুন ছবি জেনারেট করা বা শুধু পরীক্ষার জন্য অসংখ্য ছবি বানানোর অভ্যাস কমানো যেতে পারে।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও পানি কম ব্যবহার করে এমন কুলিং প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কম শক্তি খরচ করা এআই মডেল নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতের এআই কতটা পরিবেশবান্ধব হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ওপর।

একটি ছবি তৈরিতে আপনার চোখে হয়তো শুধু কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু সেই ছবির পেছনে কোথাও না কোথাও চলছে শক্তিশালী সার্ভার, খরচ হচ্ছে বিদ্যুৎ, তৈরি হচ্ছে তাপ আর সেই তাপ সামলাতেই ব্যবহৃত হতে পারে মূল্যবান পানি। তাই এআইয়ের তৈরি ছবির সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর অদৃশ্য পরিবেশগত খরচটাও জানা জরুরি।

কেএসকে

Original Source
https://www.jagonews24.com/technology/article/1156947
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Business