এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশের অনুশীলনে ‘ড্রপ ইন উইকেট’
এশিয়ান গেমসের আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প করছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এবারের এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাপানে। সেখানে ড্রপ ইন উইকেটে খেলা হবে। ফলে বাংলাদেশের অনুশীলনেও আলোচনায় আছে এই উইকেট।
রোববার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ দল। জাতীয় দলের সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচ ও বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের বর্তমান প্রধান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে হয়েছে দিনের অনুশীলন।
জাপানের উদ্দেশে ২৪ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। এর আগে ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মিরপুরে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সূচি রয়েছে। ম্যাচ দুটির একটিতে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে এবং অন্যটি নিজেদের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রতিপক্ষ যেই হোক, জাপানের কন্ডিশনে নামার আগে ম্যাচ পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি নেওয়াটাই মূল লক্ষ্য।
কারণ জাপানে বাংলাদেশের জন্য বড় অজানা বিষয় হতে পারে উইকেট। এশিয়ান গেমসের ম্যাচগুলোতে যে ড্রপ-ইন সারফেস ব্যবহারের কথা, সেটি তৈরি করছেন বিসিবির সাবেক কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। তাই দেশ ছাড়ার আগেই ওই উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে যতটা সম্ভব পরিষ্কার ধারণা নিতে চাইছে বাংলাদেশ।
জাতীয় দলের কোচিং সেটআপের এক সদস্য জানিয়েছেন, জাপানে যাওয়ার আগে গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে কথা বলবে টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেটের আচরণ, বাউন্স কিংবা অন্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তা ক্রিকেটারদের জানানো হবে।
রোববারের অনুশীলনে অবশ্য স্কোয়াডের সবাইকে পাওয়া যায়নি। যারা ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন, তাদের নিয়ে সেন্টার উইকেট ও স্ল্যাবে কাজ করেছে দল। সেন্টারের দুই উইকেটে ব্যাটাররা অনুশীলন করলেও বোলারদের মধ্যে শুধু মোস্তাফিজুর রহমান সেখানে বল করেছেন।
কোচিং স্টাফের সদস্যটি বলেন, ‘আমরা আজ (রোববার) নিয়মিত নেট সেশন করেছি। সেন্টার উইকেট ও স্ল্যাব দুই জায়গাতেই অনুশীলন হয়েছে। সবাই ব্যাটিং করেছে, সেন্টারে দুটি উইকেটও প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওই উইকেটগুলোতে শুধু মোস্তাফিজ বোলিং করেছে।’
টি-টোয়েন্টি থেকে বেশ কিছুদিন দূরে থাকার কারণে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফরম্যাটটির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুশীলনে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও ইয়াসির আলী রাব্বিসহ সাতজন ব্যাটার তুলনামূলক বেশি সময় কাটিয়েছেন।
জুলাইয়ের পর আর টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি বাংলাদেশের। ফলে এশিয়ান গেমসের আগে মিরপুরের সময়টা শুধু জাপানের কন্ডিশনের প্রস্তুতিতে নয়, টি-টোয়েন্টির ম্যাচ-টেম্পো ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
কোচিং স্টাফের ওই সদস্য বলেন, ‘যেহেতু আমরা বেশ কিছুদিন টি-টোয়েন্টি খেলিনি, তাই এখন থেকে আমাদের টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতিতেও মনোযোগ দিচ্ছি।’
জাপানে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ মিরপুরের মতো পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। সে কারণেই দেশ ছাড়ার আগের সময়টুকু সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ সেই পরিকল্পনারই অংশ।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে টাইগাররা। ‘বি’ গ্রুপের বিজয়ী দলের বিপক্ষে হবে সেই ম্যাচ। ১ অক্টোবর নির্ধারিত সেমিফাইনালের পর ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ও ফাইনাল।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সাফল্যের স্মৃতিও আছে। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে সোনা জিতেছিল তারা। আর ২০২৩ সালের হাংজু আসরে পাকিস্তানকে ছয় উইকেটে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই সাফল্যকে সোনায় রূপ দিতে চায় টাইগাররা।
এসকেডি/আইএন
