হঠাৎ অসুস্থ সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি, চাইলেন দোয়া
সিঙ্গাপুরে চিত্রায়িত ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, যুক্তরাষ্ট্রে চিত্রায়িত ‘দেশ বিদেশ’ কিংবা নেপালে নির্মিত ‘নেপালি মেয়ে’ ছবিগুলো আজও আশি-নব্বই দশকের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের মনে গেঁথে আছে। এসব ছবির নায়ক মাহমুদ কলি। একসময় বিদেশে শুটিং মানেই ঢাকাই সিনেমার দর্শকের কাছে মাহমুদ কলির ছবি।
আশির দশকে সামাজিক, রোমান্টিক ও ফ্যান্টাসিধর্মী সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক ও পরবর্তী প্রজন্মের ইলিয়াস কাঞ্চন, জাফর ইকবালদের যুগে তীব্র প্রতিযোগিতার ভিড়েও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন মাহমুদ কলি। সুন্দর মুখ, সুঠাম লম্বা দেহ, স্টাইলিশ চুল- মাহমুদ কলিকে দিয়েছিলো অন্য নায়কদের চেয়ে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় এই অভিনেতা অসুস্থ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছে দোয়াও চেয়েছেন।
গতকাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাহমুদ কলি লেখেন, ‘প্রিয় বন্ধু, বিনীতভাবে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।’
তার এই পোস্টে নিজের অসুস্থতার বিস্তারিত জানাননি মাহমুদ কলি। তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে তার পোস্ট দেখে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মন্তব্যের ঘরে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

সত্তরের দশকের শেষ দিকে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু করেন মাহমুদ কলি। সে সময় তার অভিনয় ও জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ হন দর্শক। সোনালি দিনের এই অভিনেতার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। তার জন্ম, বেড়ে ওঠা সব ঢাকায়। তারা তিন ভাই, তিন বোন। একমাত্র মেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। তার পারিবারিক নাম মাহমুদুর রহমান উসমানী। তিনি বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনির্মাতা আজিজুর রহমান বুলি’র ছোট ভাই। মূলত ভাইয়ের হাত ধরেই তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। এরপর দেখিয়েছেন অভিনয়ের মুন্সিয়ানা।
ঢাকার ওয়ারীর ওয়্যারস্টীটের এই বাড়িতেই জন্মেছেন মাহমুদ কলি
মাহমুদ কলি’র প্রথম চলচ্চিত্র ‘মাস্তান’। তিনি এই চলচ্চিত্রে সহ-অভিনেতার ভুমিকায় ছিলেন। এরপর ১৯৭৮ সালে অশোক ঘোষ নির্মিত ‘তুফান’ চলচ্চিত্রে মূল নায়কের ভুমিকায় অভিনয় করেন।
মাহমুদ কলি জানান, তিনি ৬১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তারমধ্যে ২টি ছবি মুক্তির মুখ দেখেনি। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘গোলমাল’, ‘নেপালি মেয়ে’, ‘শ্বশুরবাড়ি’, ‘সুপারস্টার’, ‘গ্রেফতার’, ‘খামোশ’, ‘মহান’, ‘দেশ বিদেশ’, ‘মা বাপ’ ইত্যাদি। শাবানা, ববিতা, রোজিনা, অলিভিয়া, দিতি, চম্পা, অঞ্জনা, সূচরিতা, নূতনসহ অনেক নায়িকার সঙ্গেই তাকে দেখা গেছে সপ্রতিভ। তিনি কলকাতার দেবশ্রী রায়ের বিপরীতে ‘সবার উপরে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর পরিচালক ছিলেন শওকত জামিল।
শুধু অভিনয়েই নয়, চলচ্চিত্রের শিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মাহমুদ কলি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তবে সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রের পর্দা থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নেন এই অভিনেতা। বর্তমানে ব্যবসা ও পরিবার নিয়েই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। নিয়মিত অভিনয়ে না থাকলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পুরোনো প্রজন্মের কাছে মাহমুদ কলি এখনো পরিচিত ও প্রিয় একটি নাম।
এলআইএ




