শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি আজ
জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি হবে।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুপুরের পরে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান ইরফান গত ১৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা ও মহিউদ্দিন মহারাজ।
এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া বড় ছেলে আবু তালেবকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হন রাজমিস্ত্রি বাবুল মৃধা।
লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার পিঠে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২২ আগস্ট তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিএমএইচ হাসপাতালে বাবুল মৃধা মারা যান।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
এমডিএএ/এসএনআর

