সুটকেসে না ধরায় প্রেমিকার মরদেহ দুই টুকরো করেন প্রেমিক

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পিবিআই। হত্যায় ব্যবহৃত বটি, দা, মোবাইল ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেম, পূর্বের বিয়েসহ নানা বিষয়ে ক্ষোভের জন্ম থেকে ওই নারীকে তার প্রেম...

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পিবিআই। হত্যায় ব্যবহৃত বটি, দা, মোবাইল ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেম, পূর্বের বিয়েসহ নানা বিষয়ে ক্ষোভের জন্ম থেকে ওই নারীকে তার প্রেমিক হত্যা করে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গাজীপুর জেলার পিবিআই’র পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

গ্রেফতার মো. মিশন ইসলাম (২২) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. মাসকুর আলমের ছেলে, তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বুড়াবুড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। মাসহ মিশন ইসলাম গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসী ভিটা সাগর মার্কেট এলাকার আনোয়ারের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

নিহত ডলি আক্তার (৩০) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার পাহাড় পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডলি গাজীপুরের বানিয়ারচালা একটি কারখানায় কাজের পাশাপাশি ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের খালের পানিতে একটি সুটকেস, পাশের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা এক নারীর খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বড় ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা রুজু করেন। মামলা রুজুর পর নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ ছায়া তদন্ত শুরু করে গাজীপুর পিবিআই।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যায় জড়িত সন্দেহে মো. মিজানুর রহমান মিল্টন, মো. মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার আলাদা ভাড়া বাসা থেকে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ডলি আক্তার ও মো. মিশন ইসলাম একই কারখানায় কাজে সুবাদে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। সম্পর্কের সূত্রে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের ভাড়া বাসায় যান ডলি আক্তার। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে মিশন ও ডলি একই রুমে ও বানু আক্তার পাশের রুমে ঘুমাতে যান।

এসময় বিয়েসহ পূর্বের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও কথা কাটাকাটি হলে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন ইসলাম। রাতেই ডলিকে ঘুম ও এলার্জির ওষুধ খাওয়ান মিশন। ডলি ঘুমিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে মিশন তার লুঙ্গি পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে করে মরদেহ ঘরের চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় চৌকির নিচে ডলির মরদেহ দেখতে পান। পরে মা ও সন্তান পরিকল্পনা করে মরদেহটি গুম করার জন্য বাজার থেকে একটি সুটকেস নিয়ে আসেন। মরদেহ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড সংগ্রহ করেন। পরে বটি, দা ও ব্লেড ব্যবহার করে মরদেহটি কোমর থেকে দুই খণ্ড করেন। মরদেহের এক খণ্ড সুটকেসে, অপর খণ্ড পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখেন।

বাসা পরিবর্তনে সহযোগিতার কথা বলে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে ডেকে আনেন মিশন ইসলাম। মিশনের বাসায় এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় ওঠান মিল্টন। পরে মিশন, বানু আক্তার ও মিল্টন অটোরিকশায় রাজেন্দ্রপুর যান, সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেন। এসময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে বস্তা ও সুটকেসে কী রয়েছে মিশনের কাছে জানতে চান। মিশন ডলির মরদেহ থাকার বিষয়টি জানালে তারা নিজদের বাসায় চলে যায়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যে মিশন ইসলামের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ডলির মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করতে ব্যবহার করা বটি, দা, মৃতদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করে পিবিআই।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মরদেহটি পচে যাওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

শিহাব খান/এফএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1157016
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World