শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
  দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচনের নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন এনে খসড়া প্রবিধানমালা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত অনুমোদন হলে নতুন নিয়...

 

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচনের নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন এনে খসড়া প্রবিধানমালা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত অনুমোদন হলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

খসড়া প্রবিধানমালা অনুযায়ী- গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি ও কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারাও সভাপতি প্রার্থী হতে পারবেন। একই সঙ্গে সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বহাল রাখা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এতে সভাপতিত্ব করেন।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর কমিটি প্রবিধানমালার এ সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন যেভাবে

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন ক্যাটাগরির সদস্য পদে আগে নির্বাচন হবে। সদস্য নির্বাচন শেষ হওয়ার সাতদিনের মধ্যে সভাপতির নির্বাচনের জন্য সভা আহ্বান করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার সভায় সভাপতিত্ব করবেন। উপস্থিত নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

তবে সভাপতি নির্বাচনের সভায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিধানও রাখা হয়েছে।

সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান বহাল

এদিকে, ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালায় থাকা যোগ্যতা সভাপতির শিক্ষাগত স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি বহাল রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রবিধানমালাতেও একই যোগ্যতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এতে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। একই ব্যক্তি একই ধরনের দুটির বেশি ও মেয়াদভিত্তিক ধরনের তিনটির বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না- এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নেও পরিবর্তন
গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রবিধানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান ছিল।

২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানে ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার বিধান আনা হয়। সেখানে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের সুযোগ রাখা হয়।

তবে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত প্রবিধানে গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নামের তালিকায় আগে এবং পরে (ক্রমধারা) থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সভাপতির ক্ষমতা কমছে!
ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচিত সভাপতির কিছু ক্ষমতা খসড়া প্রবিধানমালায় রহিত করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগেও শব্দের পরিবর্তন

প্রস্তাবিত প্রবিধানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি বিধি অনুযায়ী সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত শিক্ষক নিয়োগ করবে। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতিও দেওয়া যাবে।

আগের সংশোধিত প্রবিধানে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত প্রবিধানে এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন প্রার্থীকে নিয়োগ ও কর্মচারীদের প্রয়োজনমতো নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবিত প্রবিধানমালার আরও কয়েকটি স্থানে ‘শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান’ শব্দের পরিবর্তে নতুন পরিভাষা প্রতিস্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে রোববারের সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে তা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নীতিমালা আকারে জারি করা হবে। ফলে এটি এখনই চূড়ান্ত হয়েছে, তা বলা যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে আরও সংশোধনী আনা হতে পারে।’

এএএইচ/জেএইচ

Original Source
https://www.jagonews24.com/education/news/1157009
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World