বজ্রপাত রোধে জহির রায়হানের অভিনব উদ্যোগ
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত প্রতিরোধে ঝিনাইদহে সড়কের দুই পাশে তাল বীজ রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিবেশকর্মী জহির রায়হানের অভিনব উদ্যোগে এসব তাল বীজ রোপণ করা হয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের চন্ডিপুর-বেড়াশুলা মাঠে প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে এসব বীজ রোপণ করা হয়। এসময় স্থানীয় কৃষক, শিক্ষক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উদ্যোক্তারা জানান, বজ্রপাতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে তাল বীজ সহ নানা জাতের বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে অন্তত সাত হাজার তাল বীজ রোপণ করা হয়েছে।
পরিবেশ কর্মী জহির রায়হান জানান, তরুণদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সড়কের পাশে তাল বীজ রোপণ করেন। এছাড়া অন্যান্য জাতের গাছের চারাও রোপণ ও বিতরণ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শংকরপুর চন্ডিপুর মাঠে তাল বীজ রোপণ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ। তরুণ, মধ্যবয়সী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ দলবেঁধে কাজে অংশ নিয়েছেন। কেউ পাটকাঠি দিয়ে গাছের সঠিক দূরত্বের মাপ নিচ্ছেন, কারও হাতে কোদাল মাটি খোঁড়ার কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ তালবীজ বোঝাই ভ্যানগাড়ি ঠেলে পৌঁছে দিচ্ছেন নির্দিষ্ট স্থানে। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো দুই কিলোমিটার পথ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয় তালবীজ।
পথচারী একরামুল কবির জানান, বৃক্ষনিধনের এই যুগে জহির রায়হানের এমন প্রকৃতিপ্রেম সত্যিই এক দারুণ দৃষ্টান্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এবং সবুজ পৃথিবী গড়তে জহির রায়হানের এই মহতী উদ্যোগকে অনুসরণ করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয় সমাজসেবক নাহিদ হোসেন জানান, তালগাছ বড় হলে আমরা তীব্র রোদে ছায়া পাবো। ফল ও রস খেতে পারব। বজ্রপাত থেকেও তাল গাছ আমাদের রক্ষা করতে সহায়ক হবে।
জহির রায়হান বলেন, চন্ডিপুর বাজার থেকে বেড়াশুলা মাঠ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মেঠোপথের দুই পাশে প্রায় সাড়ে ৫শ' তালবীজ রোপণ করেছি। বজ্রপাতে যেন কৃষকের প্রাণহানি না হয়, সেই লক্ষ্যে আমার সাধ্য অনুযায়ী এ কর্মসূচি পালন করছি। সবার উচিত সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করা।
এম শাহাজান/কেজে/এএসএম


