বিনামূল্যে ৮৩ হাজার গবাদিপশুকে টিকা, স্বস্তিতে প্রান্তিক খামারিরা

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
রাজশাহীর পবায় রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে সুরক্ষিত রাখতে বিনামূল্যে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের মধ্যে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প...

রাজশাহীর পবায় রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে সুরক্ষিত রাখতে বিনামূল্যে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের মধ্যে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

সোমবার সকাল থেকেই টিকা নিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা। তারা গরু, ছাগল এবং হাঁস-মুরগি নিয়ে আসেন। রোগের প্রাদুর্ভাবে পশুপাখি মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এসব রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজার দিয়াড়েও অনলাইনে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পবা উপজেলা অত্যন্ত উর্বর এলাকা। এখানে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রান্তিক খামারি কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হন।

বর্তমান সরকার প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে সবাইকে উৎপাদনমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, বাড়িতে গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে অনেক পরিবার সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করে। কিন্তু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে পশুপাখি মারা যাওয়ার তাদের আয়ের পথও সংকুচিত হয়। প্রান্তিক খামারিদের কথা বিবেচনা করেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সময়মতো বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও জানান, কর্মসূচির আওতায় গরুর তড়কা রোগের ২ হাজার, বাদলা রোগের ২ হাজার ৫০০ এবং গলাফুলা রোগের ২ হাজার টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ছাগলের পিপিআর রোগের ২ হাজার, মুরগির রানীক্ষেত রোগের ৭০ হাজার এবং হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ৫ হাজার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালগাছি এলাকার খামারি রেজাউল হক নিজের গরু, ছাগল ও হাঁস নিয়ে টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ২টি হাঁস, ৩টি গরু ও ৫টি ছাগলকে টিকা দিয়েছি। বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় আমাদের মতো ছোট খামারিদের অনেক উপকার হয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ হলে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

বড়গাছী ইউনিয়নের গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমি ২টি ছাগল ও ১টি গরুকে টিকা দিয়েছি। নিজের খরচে সব সময় টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় পশুগুলোকে রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ হয়েছে। এ জন্য আমরা খুবই খুশি।’

তালগাছি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক একটি রাজহাঁস নিয়ে ডাকপ্লেগ রোগের টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘হাঁস-মুরগি আমাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় ভরসা। একটি রোগে অনেকগুলো হাঁস-মুরগি মারা যেতে পারে। বিনামূল্যে টিকা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে আমাদের মতো প্রান্তিক খামারিরা আরও উপকৃত হবেন।’

এ সময় পবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল লতিফ, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সোহরাব খানসহ উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1157041
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World