কোচ বাটলারের শিশুসুলভ পরীক্ষার ফল ‘লজ্জাজনক হার বাংলাদেশের’
নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার কী খুব ‘বাজি’ ধরতে ভালোবাসেন? একজন কোচকে অনেক সময় অনেক রিস্ক নিতে হয়। দলের প্রয়োজনে কখনো কখনো কোনো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে, অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়ার রেওয়ারজ অনেক রয়েছে।
কিন্তু তাই বলে, একটি দলের পুরো খোলনলচে পাল্টে দেয়ার মত রিস্ক সম্ভবত আর কেউ নেন না। দল নিয়ে ‘গেম’ খেলতে খেলতে সেটা যখন ভারসাম্যহীন একটি পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়, তখনই বিপর্যয় শুরু হয়। যে বিপর্যয়ের ঢেউ সামলানো হয়ে পড়ে অনেক কঠিন।
এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই ‘গেমটা’ই খেলতে চেয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। তার সিদ্ধান্ত যে পুরোপুরি বাচ্চাসুলভ ছিল তা প্রমাণ করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
১০-০ গোলে বাংলাদেশ বিধ্বস্ত হয়েছে কোরিয়ানদের কাছে। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এতবড় ব্যবধানে আর কখনো হারেনি। ২০১৩ সালে ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে থাইল্যান্ডের কাছে সর্বোচ্চ ৯-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবলাররা।
নারী ফুটবলের ফিফা র্যাংকিংয়ে উত্তর কোরিয়া রয়েছে ১১তম স্থানে। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে। অন্যদিকে বাংলাদেশ র্যাংকিংয়ে রয়েছে ১০৭ নম্বরে। এর অর্থ, র্যাংকিংয়েই দুই দেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
এমন পার্থক্য যখন, তখন কোচ পিটার বাটলার নিলেন শিশুসুলভ সিদ্ধান্ত। দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মনিকা চাকমা, ঋতুপর্না চাকমা, রুপনা চাকমা, দুই শামসুন্নাহার ও শিউলি আজিমের মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামনে মাঠে নামিয়ে দিলেন সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি একটি কচিকাচার একাদশকে। যেন ক্ষুদার্ত বাঘের সামনে একদল অসহায় হরিণ!
ফল যা হওয়ার তাই হলো! দুর্বল বাংলাদেশকে পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে উত্তর কোরিয়ার নারী ফুটবলাররা। তাদের সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভরাডুবির শিকার হলো বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ এই ফুটবলারদের নিয়ে একাদশ গঠন করলে হয়তো বাংলাদেশ জিততো না; কিন্তু ব্যবধানটা তো কমে আসতো! এমন ভরাডুবির শিকার হয়তো হতে হতো না বাংলাদেশ দলকে।
বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি দলের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ফুবলারদের বাদ দিয়ে দেন। সাবিনা, কৃষ্ণাদের বাদ দিয়ে দল গঠন করেন। এসব নিয়ে তখন কম জল ঘোলা হয়নি। ফুটবলাররা বিদ্রোহ পর্যন্ত করেছিল।
বাটলারের কোচিং দর্শনই হলো সিনিয়রদের বাদ দিয়ে কম বয়সীদের সুযোগ দিতে হবে। তাতেই সাফল্য ধরা দেবে। তা হয়তো সাউথ এশিয়ান (সাফ) অঞ্চলে ভালো করা সম্ভব। কিন্তু এর বাইরে এশিয়ান পর্যায়েও ন্যুনতম লড়াই করা যে যাবে না, সেটা এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ হয়ে গেলো। বাটলার মনে করেছিল, অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠন করি, তাতে দলেরই ভালো হবে। কিন্তু সিদ্ধান্তটা যে বুমেরাং হলো, তা উত্তর কোরিয়ার ফুটবলাররা দেখিয়ে দিলো।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যে একাদশ মাঠে নামিয়েছিলেন বাটলার
মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন, অর্পিতা বিশ্বাস, কোহাতি কিসকু, মোমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, সুলতানা।
আইএইচএস/





