জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবি শিক্ষার্থী, যে ব্যাখ্যা দিলেন ফরহাদ

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে তিনি ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন। জিন্ন...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে তিনি ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন।

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। এসময় তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যক্তিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তার ছবি এখানে রাখা হবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। জিন্নাহর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

আবু তৈয়ব হাবিলদার আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘রক্তের গৌরব’ বহনকারী প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই সংগ্রহশালায় ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

তিনি ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায়গুলোকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার ভাষ্য, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিপরীত কোনো অবস্থানকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

‘ছবি না দিলে বলা হতো ইতিহাস লুকানো হয়েছে’

এদিকে জিন্নাহর ছবি সংগ্রহশালায় রাখার বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, জিন্নাহর ছবি রাখার উদ্দেশ্য তাকে গৌরবান্বিত করা নয়; বরং বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরা।

তিনি বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি। এর আগে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমরা সেই বক্তব্যের ক্যাপশনসহ তার ছবি দিয়েছি।

এস এম ফরহাদ বলেন, আমরা যদি জিন্নাহর ছবি না দিতাম, তখন বলা হতো—জিন্নাহ বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটা আমরা লুকিয়েছি। এখন ছবি ও ক্যাপশন দেওয়ার পর বলা হচ্ছে ছবি কেন রাখা হয়েছে।’

তার দাবি, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার মাধ্যমে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তার বিতর্কিত ভূমিকা তুলে ধরতেই ছবির সঙ্গে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে।

‘এক সপ্তাহ সময় নিয়েছি, সংযোজন-বিয়োজন হবে’

ডাকসু জিএস বলেন, সংগ্রহশালা উদ্বোধনের পর তারা এক সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে গঠনমূলক মতামত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যে কোনো কারেকশন, সংযোজন কিংবা বিয়োজনের বিষয়ে আপনারা ইনপুট দিন। আমরা সেগুলো গ্রহণ করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবো।

এস এম ফরহাদ জানান, এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনেকে মেসেজ, ই-মেইল ও চিঠির মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। কিছু পরামর্শ গ্রহণও করা হয়েছে।

পুরোনো ছবি সরানো প্রসঙ্গে যা বললেন

ডাকসুর পুরোনো ছবিগুলো কোথায়—এমন প্রশ্নের জবাবে এস এম ফরহাদ বলেন, সংগ্রহশালায় থাকা কিছু পুরোনো ছবির মধ্যে এমন উপাদান ছিল, যা তাদের বিবেচনায় রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করে।

তিনি বলেন, যে পুরোনো ছবি ফ্যাসিবাদকে গ্লোরিফাই করে, যে পুরোনো ছবি খালেদা জিয়াকে ক্রিমিনালাইজ করে বা ব্যঙ্গ করে পশু আকৃতিতে উপস্থাপন করে—এ ধরনের ছবি আমরা এখানে রাখবো না।

তবে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল দাবি ডাকসু জিএসের

সংগ্রহশালা সংস্কার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এস এম ফরহাদ বলেন, বিষয়টি ডাকসুর ফরমাল বডিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, সংগ্রহশালার কাজ চলার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দুইবার সেটি পরিদর্শন করেছেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

এস এম ফরহাদ বলেন, ভিসি স্যার এলে ভালো হতো। আমি স্যারের বক্তব্য নিয়ে কোনো নেগেটিভ ফিডব্যাক দেবো না। আমি অনুরোধ করবো, তিনি এখনই এসে সংগ্রহশালা ভিজিট করুন এবং কোনটা রাখা হবে, কোনটা বাদ দেওয়া হবে—সে বিষয়ে মতামত দিন।

৭ মার্চের ছবি নিয়েও প্রশ্ন

সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ছবি দেখা যাচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে এস এম ফরহাদ বলেন, ৭ মার্চের ছবি সেখানে রাখা হবে।

তিনি দাবি করেন, সংগ্রহশালায় ৭ মার্চের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়নি। বরং সাংবাদিকদের সরেজমিনে গিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করে ৭ মার্চের ছবি রাখার কথা বলেন তিনি।

গোলাম আযমের ছবি নিয়ে জিএস

সংগ্রহশালায় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এস এম ফরহাদ বলেন, ছবিটি কে বা কারা সেখানে রেখেছে, তা তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি ছবি দেখিনি। কারা করেছে, সেটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।’

সংগ্রহশালায় ছবিটি থাকবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ডাকসুর বডির সিদ্ধান্তের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া সব ধরনের মতামত, সংযোজন-বিয়োজন ও সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে ডাকসুর ফরমাল সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডাকসু জিএস বলেন, সংগ্রহশালাকে তারা এখনই সম্পূর্ণ বা চূড়ান্ত দাবি করছেন না। বরং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক পরামর্শের ভিত্তিতে এটি আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরটি/এমকেআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/campus/news/1157127
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Education