শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’
এ বছর পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পড়ছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক ছুটির তালিকায় এ উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
তাদের প্রশ্ন, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর হলে ছুটি একদিন এগিয়ে আসবে নাকি বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী ছুটি চলবে? বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন শিক্ষাপ্রশাসনের কর্মকর্তারাও। তারা বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক উইংয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেছি। যেহেতু ২৩ তারিখে দিবসটি পড়ছে, আর ২৪ তারিখে ছুটির তালিকায় ছুটি রাখা হয়েছে; এটি নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বাৎসরিক ছুটির তালিকায় ইসলাম ধর্মের দিবস ও অনুষ্ঠানগুলো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল লেখা থাকে। সেক্ষেত্রে এটি পরিবর্তন হতেই পারে। আমরা এটা শিগগির জানিয়ে দেবো। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে সে নির্দেশনা আমরা নতুন করে চিঠি ইস্যু করবো।
এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে এ ছুটি নির্ধারণ করা হয়। নতুন নির্দেশনা যদি আসে জানানো হবে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করা দিবসগুলো ছুটির তালিকায় অনুমানের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়, তাতে একদিন কম বা বেশি হতেই পারে। যদি এদিক-সেদিক হয়, তাহলে ঘোষণা দেওয়া হবে।
জানা যায়, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর এ ছুটি নির্ভর করে। দিবসটির আগে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকলে নোটিশ দেওয়া হয়।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী
‘ইয়াজদাহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ অর্থ ১১তম দিনের ফাতিহা বা ফাতেহা শরিফ। প্রতি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে দিবসটি পালন করা হয়।
বড়পির হজরত আবদুল কাদির জিলানির (রহ) ওফাত (মৃত্যু) দিবস হিসেবে এটি পালিত হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। একে অনেক সময় ‘গেয়ারভি শরিফ’ বলা হয়।
এএএইচ/এমকেআর


