জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি নিয়ে প্রশ্নের মুখে যা বললেন ফরহাদ

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সংযুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংগ্রহশালায় জিন্ন...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সংযুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন—এ নিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

তার যুক্তি, জিন্নাহর ছবি রাখার উদ্দেশ্য তাকে গৌরবান্বিত করা নয়; বরং বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরা।

এস এম ফরহাদ বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি। এর আগে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমরা সেই বক্তব্যের ক্যাপশনসহ তার ছবি দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা যদি জিন্নাহর ছবি না দিতাম, তখন বলা হতো—জিন্নাহ বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটা আমরা লুকিয়েছি। এখন ছবি ও ক্যাপশন দেওয়ার পর বলা হচ্ছে ছবি কেন রাখা হয়েছে।’

তার দাবি, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার মাধ্যমে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তার বিতর্কিত ভূমিকা তুলে ধরতেই ছবির সঙ্গে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে।

ডাকসু জিএস বলেন, সংগ্রহশালা উদ্বোধনের পর তারা এক সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে গঠনমূলক মতামত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যে কোনো কারেকশন, সংযোজন কিংবা বিয়োজনের বিষয়ে আপনারা ইনপুট দিন। আমরা সেগুলো গ্রহণ করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবো।

এস এম ফরহাদ জানান, এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনেকে মেসেজ, ই-মেইল ও চিঠির মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। কিছু পরামর্শ গ্রহণও করা হয়েছে।

ডাকসুর পুরোনো ছবিগুলো কোথায়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এস এম ফরহাদ বলেন, সংগ্রহশালায় থাকা কিছু পুরোনো ছবির মধ্যে এমন উপাদান ছিল, যা তাদের বিবেচনায় রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করে।

তিনি বলেন, যে পুরোনো ছবি ফ্যাসিবাদকে গ্লোরিফাই করে, যে পুরোনো ছবি খালেদা জিয়াকে ক্রিমিনালাইজ করে বা ব্যঙ্গ করে পশু আকৃতিতে উপস্থাপন করে—এ ধরনের ছবি আমরা এখানে রাখবো না।

তবে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ছবি দেখা যাচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে এস এম ফরহাদ বলেন, ৭ মার্চের ছবি সেখানে রাখা হবে।

তিনি দাবি করেন, সংগ্রহশালায় ৭ মার্চের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়নি। বরং সাংবাদিকদের সরেজমিনে গিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করে ৭ মার্চের ছবি রাখার কথা বলেন তিনি।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এস এম ফরহাদ জানান, ছবিটি কে বা কারা সেখানে রেখেছে, তা তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, আমি ছবি দেখিনি। কারা করেছে, সেটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

সংগ্রহশালায় ছবিটি থাকবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ডাকসুর বডির সিদ্ধান্তের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া সব ধরনের মতামত, সংযোজন-বিয়োজন ও সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে ডাকসুর ফরমাল সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরটি/এমকেআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/education/news/1157165
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Education