জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ জন গ্রেফতার
ঢাকার খিলগাঁওয়ে জজ মিয়া (৪৪) হত্যা মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ঢাকার মেরুল বাড্ডা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- কুমিল্লার তিতাস থানার বারকোনিয়া এলাকার মো. মনির হোসেন (২৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানার নয়নপুর চারাইল এলাকার মো. রমজান ওরফে বুলেট (২২), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার রায়চরা এলাকার মো. আশিক (২২), কুমিল্লার হোমনা থানার শ্রীমদি এলাকার মো. রাসেল (২৪) এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার শ্রীরামকাঠি এলাকার মো. সাব্বির খান (২৩)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপির খিলগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ এসব তথ্য জানান। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার পাঁচজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
মহসীন আল মুরাদ বলেন, এর আগে গ্রেফতার হওয়া মো. আব্দুল্লাহ ও করিমকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দি, ভুক্তভোগীর কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, মুক্তাগাছা থানা পুলিশের সহায়তায় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার মানকোন ইউনিয়নের বাদেমাঝিরা এলাকা থেকে তিনজনকে এবং একই রাতে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) মতিঝিল বিভাগ ও খিলগাঁও জোনাল টিমের সহায়তায় মেরুল বাড্ডা এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর জজ মিয়া তার বর্তমান ঠিকানার বাসা থেকে বের হন। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২৮ মিনিটের দিকে তিনি বাড্ডার মেরুল বাড্ডা এলাকার জনৈক মতি বাবুর বাউন্ডারির ভেতরে থাকা মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা আব্দুল্লাহ, করিম, মনির হোসেন, রমজান ওরফে বুলেট, আশিক, রাসেল, সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে জজ মিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মরদেহ খিলগাঁও থানাধীন ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানী খালে ফেলে রেখে যায়।
এ ঘটনায় নিহত জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা ১০ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মহসীন আল মুরাদ।
টিটি/এমএএইচ/
