পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে, টি-বাঁধে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীর দক্ষিণে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২৮ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। নদীর পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫ মিটার। সে হিসেবে বর্তমানে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত টি-বাঁধে জনসাধারণের চলাচল ও পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধ এলাকায় থাকা ব্যবসায়ীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত টি-বাঁধটি ইংরেজি ‘টি’ অক্ষরের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার স্রোত সরাসরি নগরীর অন্যান্য এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে বাঁধটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাঁধের একপাশে স্রোত আঘাত করে পানি আবার গভীর পদ্মার দিকে প্রবাহিত হয়। এতে নগরীর বড় একটি এলাকা সুরক্ষিত থাকে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, পদ্মার পানি বাড়লেও এখনো শহর রক্ষা বাঁধে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে টি-বাঁধ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং সংকট কেটে গেলে আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সোমবার পদ্মার পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২৮ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ২ সেন্টিমিটার কমেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৭ দশমিক ২৯ মিটার।
পার্থ সরকার আরও বলেন, রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এখনো পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/এএসএম


