রাজশাহীর পবার ১৯ জলাশয়ে ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত
রাজশাহীর পবা উপজেলার ১৯টি জলাশয়ে চলতি অর্থবছরে মোট ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পবা উপজেলার কর্ণহার বড়বিলা জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
এ সময় তিনি বলেন, মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হলে স্থানীয় জলাশয়গুলো আরও সমৃদ্ধ হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং সরকারি এ কর্মসূচির সুফল পেতে এলাকাবাসীকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় পবা উপজেলার ১৯টি জলাশয়ে মোট ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ জলাভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধানখেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সফলতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শফিকুল হক মিলন বলেন, “আমার বিশ্বাস, সর্বসাধারণের জন্য আজ ক্ষেত-খামার ও বিলে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, সেই খবরটি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছাবে। তিনি হয়তো পবাকে একটি মডেল হিসেবে ধরে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য স্থানেও এমন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবেন।”
অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হওয়ার সুযোগ দিতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অবমুক্ত করা মাছগুলোকে একটু বড় হতে দেবেন। মাছ ধরা নিয়ে নিজেদের মধ্যে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা গোলমাল সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সরকারি নিয়মকানুন মেনেই আপনাদের এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।”
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এমপি মিলন আরও বলেন, মানুষের ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। তবে আমাদের সবাইকে একটি টিমের মতো কাজ করতে হবে। দেশ গড়ার কাজে আমরা সবাই একসঙ্গে নিয়োজিত থাকব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, পবার বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। অবমুক্ত করা পোনাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি এ উদ্যোগ সফল করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে জলাশয়ের মাছ রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে সহযোগিতা করতে হবে।
পবা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ মোল্লাহ।
মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/এএসএম



