রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
জ্বালানির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পরিবহন খরচও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এর পেছনে ইরান যুদ্ধের চেয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেই বেশি। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আহ্বান জানিয়েছেন তিন...

জ্বালানির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পরিবহন খরচও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এর পেছনে ইরান যুদ্ধের চেয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেই বেশি। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে।’ এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ায় জ্বালানি উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির বিভিন্ন এলাকায়। দেখা দিয়েছে পেট্রলের সংকট।

অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। তাই রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি ইউক্রেনের। কারণ, এসব স্থাপনা থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়ার যুদ্ধ চালাতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তেলশিল্প থেকে পাওয়া জ্বালানি সরাসরি রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে কিয়েভ।

এদিকে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জ্বালানির দাম নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন দেশটির মানুষ। গত শুক্রবার সেখানে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) হিসাবে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০৬ ডলার, যা প্রতি লিটারে প্রায় ১ দশমিক ৬০ ডলার। এক বছর আগে এ দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭১ ডলার বা প্রতি লিটারে প্রায় শূন্য দশমিক ৯৮ ডলার।

ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচও বাড়ে। জাহাজ, ট্রেন ও ট্রাকে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহনে এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে, পরিবহন খরচ বাড়লে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।

এদিকে, গত রোববার ট্রাম্প বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্য দায়ী নয়। তার মতে, এর মূল কারণ রাশিয়া ও ইউক্রেনে যা ঘটছে।

তবে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনে ইরান যুদ্ধেরও বড় প্রভাব রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যুদ্ধ শুরু করার পর ওই অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে ব্যাপকভাবে ব্যাঘাত ঘটে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়েই যায়। ফলে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো এর দাম ১০০ ডলারের ওপরে ওঠে। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

 

সূত্র: আল-জাজিরা

এমডিআরএইচ/

Original Source
https://www.jagonews24.com/international/news/1157228
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Economy