ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে
আয়কর বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে—গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেওয়া সেই রায় স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক আবেদন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার জজ আদালতে এ আবেদন ওঠে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
পরে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চেম্বার জজ আদালত জানিয়েছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং সেটি আদালতের কাছেও নেই। তাই এ পর্যায়ে আপিল বিভাগ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল। কিন্তু চেম্বার জজ আদালত কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে আয়কর বাবদ এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায়ে আয়কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআরের দেওয়া আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট আবেদন খারিজ করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছিলেন। পরে একই বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন। কারণ, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে আয়কর বাবদ অর্থ দাবি করে এনবিআর।
এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি রিট করে। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, ওই পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আয়কর দাবি করেছে এনবিআর।
প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরে গত ১০ সেপ্টেম্বর সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।
এফএইচ/ইএ



