কীটনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশাহারা কৃষক

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়েছে কীটনাশকের বাজারেও। দুই বছরের ব্যবধানে বেশিরভাগ কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম বেড়েছে গড়ে ২০ শতাংশ হারে। কোনো কোনো কীটনাশকের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে। কোম্পানিগুলো ‘ইচ্ছামতো’ দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিক্রেতাদের। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জান...

দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়েছে কীটনাশকের বাজারেও। দুই বছরের ব্যবধানে বেশিরভাগ কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম বেড়েছে গড়ে ২০ শতাংশ হারে। কোনো কোনো কীটনাশকের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে। কোম্পানিগুলো ‘ইচ্ছামতো’ দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বিক্রেতাদের।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বাজার বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য কীটনাশক, মাকড়নাশক, ছত্রাকনাশক, আগাছানাশকে সয়লাব। এর মধ্যে গোটা দশেক কোম্পানির অর্ধশতাধিক পণ্যের বেচাকেনা বেশি। প্রচলিত কোম্পানিগুলো হলো বায়ার, সেমকো, সিনজেনটা, অটোক্রপ, এসিআই, সেতু কর্পোরেশন, ন্যাশনাল ও পদ্মা অয়েল।

যশোর শহর ও বিভিন্ন উপজেলার সার ও কীটনাশকের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গত এক বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম গড়ে ১০-২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির দাম দ্বিগুণও হয়েছে।

‘দেশের বাজার বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য কীটনাশক, মাকড়নাশক, ছত্রাকনাশক, আগাছানাশকে সয়লাব। এর মধ্যে গোটা দশেক কোম্পানির অর্ধশতাধিক পণ্যের বেচাকেনা বেশি। প্রচলিত কোম্পানিগুলো হলো বায়ার, সেমকো, সিনজেনটা, অটোক্রপ, এসিআই, সেতু কর্পোরেশন, ন্যাশনাল ও পদ্মা অয়েল’

সার, ছত্রাকনাশক ও মাকড়নাশক হিসেবে কাজ করা থিয়োভিটের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আগে ১৪৫-১৫০ টাকা কেজির এই কৃষিপণ্যটির কেজি এখন ৩০০ টাকা। আগাছানাশক প্যারাকোয়াটের ২০ লিটারের ড্রামের দাম এখন ছয় হাজার ৫০০ টাকা। আগে এর দাম ছিল চার হাজার ২০০ টাকা।

সার, ছত্রাকনাশক ও মাকড়নাশক মাইক্রোথিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩৯৫ টাকা কেজি। অথচ ছয় মাস আগে দাম ৩০০ টাকার নিচে ছিল। ছত্রাকনাশক ম্যানসার ১০০ মিলি ২০০ টাকা এবং ৫০০ মিলি ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এই পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল।

উদ্ভিদের জৈব উজ্জীবক লিটোসেন ১০০ মিলি ১৯৩ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে। ছত্রাকনাশক সেলটিমার ১০০ মিলিতে গড়ে ২০ টাকা করে বেড়েছে। কীটনাশক মর্টারের দামও ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

‘কোম্পানিগুলোই কীটনাশক ও বালাইনাশকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই দাম নির্ধারণ করে দেয়। এমনও দেখা গেছে, একটি পণ্যের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে’

কীটনাশক মার্শালের দাম ৫০০ মিলি একবছরে ৮৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৮৫ টাকা হয়েছে। সুমিথিয়ান কার্টনপ্রতি বেড়েছে ২৫০ টাকা। নুট্রাফস ১০০ এমএল ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫ টাকা হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘কীটনাশক লাগলে দোকানদারকে বললে দিয়ে দেয়। বাকিতে কিনতে হয় বলে যে দাম বলে তাই দিয়ে কিনতে হয়। বাড়তি দাম বললে তাই দিতে হয়। শুধু বলে, কোম্পানি বাড়িয়েছে।’

শহরতলি পুলেরহাট বাজারের মেসার্স আব্দুর রাজ্জাক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে কীটনাশক, বালাইনাশকের দাম বাড়ে। ডিলার থেকে তারা মালামাল সংগ্রহ করেন। কোম্পানি খুচরা মূল্য বাড়িয়ে দিলে তাদেরও বাড়তি দামে কিনতে হয়। কেন দাম বাড়লো, তা কেউ জিজ্ঞেস করেন না।

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকার সার ও কীটনাশক বিক্রেতা কামরুজ্জামানের ভাষ্য, ‘কীটনাশকের দাম কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করে দেয়। তারা যেভাবে দাম লিখে দেয়, সেভাবেই বিক্রি হয়। এ নিয়ে আমাদের কিছু করার থাকে না।’

যশোর শহরের অন্যতম বৃহৎ সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সোনার বাংলা কৃষি ভান্ডারের পরিচালক নুরুদ্দিন মোহাম্মদ তারেক খান জানান, কোম্পানিগুলোই কীটনাশক ও বালাইনাশকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই দাম নির্ধারণ করে দেয়। এমনও দেখা গেছে, একটি পণ্যের দাম ছয় মাসের মধ্যে তিনবারও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার কৃষিপণ্যের শুল্কছাড়সহ নানা সুবিধা দেয়। ফলে এসব পণ্যের কেন বাড়লো বা দাম নির্ধারণে সরকারের ভূমিকা থাকা দরকার।

কথা হয় যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কীটনাশক বা বালাইনাশক বিক্রির ক্ষেত্রে স্থানীয় বিক্রেতারা বড় ভূমিকা রাখেন। প্রয়োজন হোক বা না হোক বিক্রেতাদের পরামর্শে কৃষকরা নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেন। সমস্যা মনে হলেই কৃষক বিক্রেতা বা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে। ফলে কারণে অকারণে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো কীটনাশকের দাম তাদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এর নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে পণ্য উৎপাদনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এসআর/এএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/country/news/1157253
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World