কর্মস্থলে নেই ১৪ মাস, কর পরিদর্শক সোহেলাকে চাকরি থেকে অপসারণ

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
স্বামীর অসুস্থতার কারণে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর পরিদর্শক কাজী নূরে সোহেলা। অনুমোদিত ছুটি শেষে প্রায় ১৪ মাস বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গত রোববার (...

স্বামীর অসুস্থতার কারণে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর পরিদর্শক কাজী নূরে সোহেলা। অনুমোদিত ছুটি শেষে প্রায় ১৪ মাস বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সই করা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, কাজী নূরে সোহেলা কর অঞ্চল-গাজীপুরের সার্কেল-১০-এর কর পরিদর্শক এবং বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বামীর অসুস্থতার কারণে তার পরিচর্যা ও সাক্ষাতের জন্য ২০২৪ সালের ৩০ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত অথবা ছুটি ভোগের তারিখ থেকে ৩০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে যান।

ছুটি শেষে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসির মিনিস্টার (কনস্যুলার)-এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাস বিনা বেতনে বহিঃবাংলাদেশ ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। এনবিআর ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ওই আবেদন নামঞ্জুর করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে ওই নির্দেশও তিনি পালন করেননি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে পরবর্তী প্রায় ১৪ মাস তিনি কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় অনুমতি ছাড়া ৬০ দিন বা তার বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নেই।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২০ মে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি এবং ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে শুনানিতেও অংশ নেননি।

পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত কর কমিশনার, পরিদর্শী রেঞ্জ-১, কর অঞ্চল-গাজীপুরকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন এনবিআরে জমা দেন।

এনবিআর জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কাজী নূরে সোহেলা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পরিপালন না করে এবং বিনা অনুমতিতে একটানা ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও ‘ডিজারশন’ (কর্মস্থল ত্যাগ করে অননুমোদিত অনুপস্থিতি) অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে ‘অসদাচরণ’ ও ‘ডিজারশন’-এর দায়ে অভিযুক্ত করে কেন চাকরি থেকে অপসারণ করা হবে না, সে বিষয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে ওই নোটিশের জবাবেও তিনি প্রস্তাবিত শাস্তির বিরুদ্ধে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চাকরি থেকে অপসারণের প্রস্তাবের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হলে কমিশনও তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে।

এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে ‘চাকরি হতে অপসারণ’ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার পলায়নের তারিখ অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকেই এ শাস্তি কার্যকর হবে।

এসএম/এমকেআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1157252
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World