দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় হাতাহাতি, আহত ৫
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মিলনায়তনের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা চেয়ার ছেড়ে এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।
মারামারিতে আহতদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. আখেরুজ্জামান স্বাধীনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাড়ি ফিরেছেন।

তবে আদিতমারীর পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রোকন উদ্দিন (বাবুল) বলেন, সভায় দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক এবং কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। তাদের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হট্টগোলে রূপ নেয় এবং প্রতিপক্ষের হামলায় তার কয়েকজন সমর্থক আহত হন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাও ফোন রিসিভ করেননি।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ‘জেলা বিএনপির সভায় হট্টগোলের খবর পেয়ে রোববার দিনগত রাত পৌনে ২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তেমন কিছু দেখা যায়নি। সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষের তরফ থেকেই থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।’
দলীয় সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মূল কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন। লালমনিরহাট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন এবং তারই চাচাতো ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম।
রোকন উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়। রোববারের সভায় রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া সালেকুজ্জামান ও আমিনুল ইসলাম মূলত জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ও একই বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।
মহসীন ইসলাম শাওন/এসআর

