২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ব্যবসায়িক ঋণ ও পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছিলেন অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন আদালত। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের কাছে তার প্রায় ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা দায় রয়েছে বলে আদালত সংশ্লি...

ব্যবসায়িক ঋণ ও পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছিলেন অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন আদালত। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের কাছে তার প্রায় ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা দায় রয়েছে বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম এ রায় দেন।

মামলায় ৭২ জন বিবাদীর পক্ষে আইনজীবী মো. রুহুল আমিন জাগো নিউজকে রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ওসমান গনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য অর্থ নিয়েছিলেন। পরে ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পেরে আদালতে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেন।

তবে, আইনজীবী রুহুল আমিনের অভিযোগ, আদালত কোনো তদন্ত না করেই দেউলিয়া ঘোষণার রায় দিয়েছেন। কোনো তদন্ত সংস্থাকেও বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

তার ভাষ্য, এ রায়ের কারণে বিবাদী ও পাওনাদাররা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রায় হয়ে যাওয়ায় পাওনাদারদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

রুহুল আমিন বলেন, যেহেতু আদালত তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন, তাই পাওনাদারদের এখন আর কিছু করার নেই। কিছু ব্যবসায়ী আইনের এই সুযোগ নিচ্ছেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দেউলিয়া বিষয়ক আইনের ১০ ধারায় ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে মামলাটি করেন ওসমান গনি। মামলায় মোট ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়। বিচার চলাকালে তিনজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মামলার আরজিতে ওসমান গনি বলেন, পাওনাদারদের সঙ্গে আর্থিক দাবি-দাওয়া মেটানোর জন্য সমঝোতা কিংবা অন্য কোনো কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজেও তিনি সফল হননি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেন।

মামলার প্রথম থেকে সপ্তম বিবাদী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা নিয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ৮ থেকে ২৬৭ নম্বর বিবাদীর মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাদের সঙ্গে ওসমান গনির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে ওসমান গনি শুরুতে তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল পরিচালনা করেন। ব্যবসার শুরুর দিকে নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতেন বলেও আরজিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে, পরে ওই এলাকায় একাধিক নতুন অটোমেটিক রাইস মিল গড়ে ওঠে। এতে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি চালকলের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

ওসমান গনির দাবি, একপর্যায়ে চাল উৎপাদনে যে ব্যয় হচ্ছিল, তা চাল বিক্রি করে পাওয়া অর্থের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এতে অটোমেটিক রাইস মিল শিল্পে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয় এবং চালকল মালিকরা লোকসানের মুখে পড়েন।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধ করতে পারেননি বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওসমান গনির কাছে পাওনা টাকা পরিশোধের দাবিতে ২০২৪ সালে নওগাঁয় মানববন্ধনও করেছিলেন কয়েকজন পাওনাদার। সেখানে তারা তাদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

এমডিএএ/এএমএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/law-courts/news/1157276
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World