ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সহিংসতায় উসকানি, অর্থের জোগান এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রায়ের দিন নির্ধারণের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
মামলার সাত আসামি
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। এছাড়া বেশকিছু কল রেকর্ড, ডকুমেন্টারি এভিডেন্স, জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২।
যেসব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সরকার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমন করেছিল। আন্দোলন দমনের জন্য সরকার বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছিল, যা পরে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উৎসাহিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ডেকে সশস্ত্র নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যার নির্দেশনা, পরামর্শ ও উসকানি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া আন্দোলন দমনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া এবং আন্দোলনের সহিংসতার ছবি প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা করার হুমকি দেওয়ার বিষয়ও অভিযোগে রয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।
কল রেকর্ডে কী আছে
কল রেকর্ডের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতিকে ওবায়দুল কাদের সরাসরি আন্দোলন দমনের নির্দেশনা দিয়ে ‘পিটাও না কেন, তাদের মারো না কেন’—এ ধরনের কথা বলেছেন।
এছাড়া তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে ওবায়দুল কাদের ফোন করে ‘ইন্টারনেটটা স্লো করে দাও’ বলেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটে বলে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পারস্পরিক কথোপকথনের কল রেকর্ডও ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব কথোপকথনে আন্দোলন দমনে অর্থ সংগ্রহ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে অর্থ দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানোর বিষয় উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সর্বোচ্চ শাস্তির আশা
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি তারা পাবেন—এটাই আমরা আশা করি।
এফএইচ/ইএ



