হিসাব নম্বর ভুল হলেই ধরা পড়বে, সঞ্চয়পত্রে চালু এভিএস
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পরিশোধে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের কারণে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমাতে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) চালু করেছে সরকার। জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে এ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে এটি কার্যকর হবে। স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে জানানো হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার ফলে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। ফলে ভুল হিসাব নম্বরের কারণে মুনাফা বা মূল টাকা ফেরত আসা এবং একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি’ কর্মসূচির আওতায় এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন বর্তমানে ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনা বা এনএসসি সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রাহকদের মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়।
গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের কার্যক্রম।
এতদিন অনলাইন ব্যবস্থায় ব্যাংক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই হুবহু সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। কোনো একটি সংখ্যা ভুল হলেও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো মুনাফা বা মূল অর্থ ফেরত আসত। পরে তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তির পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজের চাপ বাড়ত।
এ ছাড়া ভুল হিসাব নম্বরের কারণে একজন বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল। নতুন এভিএস ব্যবস্থায় এনএসসি সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সেটি যাচাই করা হবে।
প্রথমে দেখা হবে হিসাব নম্বরটি সঠিক ও সচল কি না। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে টাকা পাঠানোর আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
দুটি ক্ষেত্রে এভিএস ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হবে। আবার সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার পর কোনো বিনিয়োগকারী ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একইভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করা হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মতে, এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর অন্তর্ভুক্তির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ফেরত আসার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজের চাপও হ্রাস পাবে।
এর ফলে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।
অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সঞ্চয়পত্রের লেনদেনকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে।
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক লেনদেনের ক্ষেত্রে ভুল কমানোর পাশাপাশি গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ সঠিক সময়ে দ্রুত ও নিরাপদভাবে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।
এমএএস/জেএইচ


