ভোটের বাক্সের বাইরে গণতন্ত্রের জীবন

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
ভোটের দিনটিকে আমরা গণতন্ত্রের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিন হিসেবে দেখি। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে মানুষের সারি, হাতে ভোটার স্লিপ, আঙুলে অমোচনীয় কালি, ব্যালট বাক্স, গণনা শেষে ফলাফল—সব মিলিয়ে যেন গণতন্ত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর কী হয়? নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কি স...

ভোটের দিনটিকে আমরা গণতন্ত্রের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিন হিসেবে দেখি। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে মানুষের সারি, হাতে ভোটার স্লিপ, আঙুলে অমোচনীয় কালি, ব্যালট বাক্স, গণনা শেষে ফলাফল—সব মিলিয়ে যেন গণতন্ত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর কী হয়? নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কি সেখানেই শেষ? পাঁচ বছর বা পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত নাগরিকের গণতান্ত্রিক ভূমিকা কি কেবল অপেক্ষা করা?

আসলে গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ভোটের বাক্স বন্ধ হওয়ার পর। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। দিনটি তাই শুধু নির্বাচন, ভোটাধিকার কিংবা রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভাবার উপলক্ষ নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র মূলত একটি জীবনব্যবস্থা; যেখানে নাগরিকের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, আইনের শাসন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, ভিন্নমতের নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রতিদিনের বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়।

গণতন্ত্রের একটি মৌলিক সৌন্দর্য হলো, জনগণ সরকার নির্বাচন করে; কিন্তু সরকার জনগণের মালিক হয়ে যায় না। নির্বাচনে জয়ী হওয়া কোনো দল রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান, সব সম্পদ এবং সব নাগরিকের ওপর সীমাহীন কর্তৃত্বের অধিকার পায় না। বরং নির্বাচনের মাধ্যমে পাওয়া ক্ষমতারও সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমা থাকে। সেই সীমাই নাগরিক স্বাধীনতার নিরাপত্তা।

গণতন্ত্রের জীবন তাই ব্যালট বাক্সের বাইরে। সংসদের বাইরে। নির্বাচনি প্রচারণার বাইরেও। তার আসল বাস মানুষের প্রতিদিনের জীবনে—একজন নাগরিকের নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার, একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, একজন বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা, একজন সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা এবং একজন সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাওয়ার সাহসে।

এই জায়গাটিই গণতন্ত্রকে নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন থেকে আলাদা করে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সরকার গঠিত হতে পারে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছায় সংখ্যালঘুর অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। সরকার জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু জনপ্রিয়তা তাকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় না। সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে, কিন্তু সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কিংবা নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংকুচিত করার লাইসেন্স হতে পারে না।

সুতরাং একটি দেশে নিয়মিত নির্বাচন থাকলেই গণতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ হয়ে যায় না। নির্বাচন গণতন্ত্রের দরজা খুলে দেয়; কিন্তু ঘরের ভেতরে গণতন্ত্র আছে কি না, তা বোঝা যায় অন্য জায়গায়।

দেখতে হয়, একজন নাগরিক সরকারের সমালোচনা করতে পারেন কি না। একজন সাংবাদিক ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করতে পারেন কি না। একজন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী নিরাপদে তার মত প্রকাশ করতে পারেন কি না। একজন বিচারপ্রার্থী রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে আদালতে ন্যায়বিচারের আশা করতে পারেন কি না। একজন সাধারণ মানুষ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিজের রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা স্বাস্থ্যসেবার দাবি জানিয়ে প্রতিকার পেতে পারেন কি না।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বলে দেয় একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্র কতটা জীবন্ত। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আলোচনায় তাই শুধু কে ক্ষমতায় যাবে—এই প্রশ্নে আটকে থাকলে চলবে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের একটি দুর্বলতা হলো—আমরা সরকার ও রাষ্ট্রকে প্রায়ই এক করে ফেলি। যেন সরকার পরিবর্তন মানেই রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তন। ক্ষমতাসীন দল পরিবর্তিত হলে প্রশাসনের আনুগত্যের ভাষা বদলে যায়, প্রতিষ্ঠানের আচরণ বদলে যায়, কখনো কখনো রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে রাজনৈতিক পরিচয় নাগরিক অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। গণতন্ত্রের জন্য এটি বিপজ্জনক।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার আসবে, সরকার যাবে; কিন্তু প্রতিষ্ঠান থাকবে। রাজনৈতিক দল বদলাবে, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব বদলাবে না। ক্ষমতাসীনরা পরিবর্তিত হবে, কিন্তু বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা অটুট থাকবে। মন্ত্রিসভা পরিবর্তিত হবে, কিন্তু নাগরিকের অধিকার পরিবর্তিত হবে না। প্রতিষ্ঠানের এই ধারাবাহিকতাই রাষ্ট্রকে ব্যক্তিনির্ভরতা থেকে রক্ষা করে।

ক্ষমতার চেয়ে বড় জবাবদিহি

গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জবাবদিহি। ক্ষমতাসীনদের কাছে প্রশ্ন করার অধিকার না থাকলে নির্বাচনও ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে পারে। কারণ ভোটার একদিন ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করলেন, কিন্তু পরের দিন সেই সরকার কী করছে—তা জানার, প্রশ্ন করার এবং প্রয়োজন হলে সমালোচনা করার অধিকার যদি নাগরিকের না থাকে, তাহলে গণতন্ত্রের চর্চা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

একটি শক্তিশালী সংসদ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ শুধু আইন পাস করার জায়গা নয়; এটি সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা, প্রশ্ন এবং জবাবদিহির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। বিরোধী দল সংসদে থাকবে, সমালোচনা করবে, বিকল্প নীতি দেবে—এটিও গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ।
বিরোধিতা মানেই রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়। সরকারের সমালোচনা মানেই দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। বরং একটি সুস্থ গণতন্ত্রে সরকারকে প্রশ্ন করা দেশকে শক্তিশালী করারই অংশ।

কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমরা অনেক সময় ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখি। আমার মতের সঙ্গে আপনার মত মিলবে না—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। সবাই একই কথা বললে সেটি গণতন্ত্র নয়; সেটি হতে পারে নীরবতার সংস্কৃতি।

রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তাই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আচরণে। নিজের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ; প্রকৃত গণতান্ত্রিক চরিত্রের পরীক্ষা হয় যখন ক্ষমতাবান ব্যক্তি তার সমালোচকের অধিকার রক্ষা করেন। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বিজয়ীর ক্ষমতায় যতটা নয়, পরাজিতের নিরাপত্তায় তার চেয়ে বেশি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সুযোগ ও বিপদ

ডিজিটাল যুগ গণতন্ত্রের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আগে সংবাদ ও মতামত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। এখন একজন সাধারণ নাগরিকও নিজের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ বা মতামত মুহূর্তে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। এটি নাগরিক ক্ষমতায়নের বড় সুযোগ। কিন্তু একই প্রযুক্তি গুজব, অপপ্রচার, ঘৃণার ভাষা, চরিত্রহনন ও রাজনৈতিক মেরুকরণকেও তীব্র করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি দায়িত্বশীলতাও প্রয়োজন। একটি মিথ্যা তথ্য কয়েক মিনিটে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। একটি সম্পাদিত ছবি বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ডিজিটাল নাগরিকত্ব এখন গণতন্ত্রের নতুন চ্যালেঞ্জ। এখানে সমাধান সেন্সরশিপ নয়; প্রয়োজন গণমাধ্যম ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো। মানুষকে শেখাতে হবে তথ্য যাচাই করতে, ভিন্নমত শুনতে এবং উত্তেজনামূলক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আগে থামতে।

রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব আছে। ভুয়া তথ্য মোকাবিলার নামে যেন বৈধ সমালোচনা বা মতপ্রকাশের পথ সংকুচিত না হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তার স্বাধীন কণ্ঠও গুরুত্বপূর্ণ।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে কাছের প্রতিষ্ঠান

গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা জাতীয় রাজনীতি, সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে এত বেশি কথা বলি যে স্থানীয় সরকারকে প্রায় ভুলেই যাই। অথচ একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনে গণতন্ত্রের সবচেয়ে কাছের অভিজ্ঞতা তৈরি হয় স্থানীয় পর্যায়ে। তার বাড়ির সামনে রাস্তা ভাঙা। ড্রেন বন্ধ। পানি নেই। বর্জ্য পড়ে আছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট। সে কার কাছে যাবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই স্থানীয় গণতন্ত্রের বাস্তবতা। স্থানীয় সরকার যদি শক্তিশালী হয়, নাগরিকের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ে, বাজেট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা থাকে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন—তাহলে গণতন্ত্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান হয়।

একটি গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন নাগরিককে শুধু পাঁচ বছর পরপর ভোটার হিসেবে দেখা হয় না; প্রতিদিন তাকে নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়।

তাই স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর, আর্থিকভাবে সক্ষম ও জবাবদিহিমূলক করা জরুরি। স্থানীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো যেতে পারে। তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সহজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডের সামাজিক নিরীক্ষা হতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা সম্ভব।

গণতন্ত্রকে রাজধানীর রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বের করে মানুষের পাড়া-মহল্লায় পৌঁছে দিতে না পারলে এর শিকড় গভীরে যাবে না।

ভোটের পরও নাগরিক

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা সম্ভবত এই যে নাগরিকের দায়িত্ব ভোট দেওয়ার মধ্যেই শেষ। অথচ ভোট দেওয়ার পর নাগরিকের দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবেন, প্রশ্ন করবেন, তথ্য চাইবেন, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সংগঠিত হবেন, সংবাদমাধ্যমে মত প্রকাশ করবেন এবং অন্যের মতের অধিকারও রক্ষা করবেন।

একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলোরও গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনি কৌশল হিসেবে দেখলে চলবে না। দলের ভেতরে নেতৃত্ব নির্বাচন, মতের বৈচিত্র্য, তরুণ ও নারীর অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। যে রাজনৈতিক দল নিজের ভেতরে ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না, রাষ্ট্র পরিচালনায় গিয়ে তার গণতান্ত্রিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

গণতন্ত্র কোনো সমাপ্ত প্রকল্প নয়। এটি প্রতিদিনের অনুশীলন। সংবিধান, আইন ও প্রতিষ্ঠান তার কাঠামো তৈরি করে; কিন্তু নাগরিকের আচরণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ক্ষমতাবানদের সংযম তাকে প্রাণ দেয়।

তাই আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে আমাদের সামনে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হওয়া উচিত—আমরা কি শুধু ভোট দিতে চাই, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে ভোট দেওয়ার পরও আমাদের কণ্ঠস্বরের মূল্য থাকবে?

আমরা কি এমন রাষ্ট্র চাই, যেখানে সরকারকে প্রশ্ন করা অপরাধ নয়; সংবাদমাধ্যমকে ভয় পেতে হয় না; বিচারপ্রার্থী পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হন না; বিরোধী মত রাষ্ট্রের শত্রুতে পরিণত হয় না; স্থানীয় মানুষ নিজের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারেন?

গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য সংখ্যাগরিষ্ঠের শক্তিতে নয়, সংখ্যালঘুর নিরাপত্তায়। সরকারের জনপ্রিয়তায় নয়, সরকারের জবাবদিহিতে। নির্বাচনের জয়ে নয়, পরাজিতের অধিকার রক্ষায়। ক্ষমতা অর্জনে নয়, ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ রাখার সক্ষমতায়।

ভোটের বাক্স গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সেটিই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়। একটি দেশ কতবার নির্বাচন করেছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সেই দেশের মানুষ কতটা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে, কতটা নিরাপদে ভিন্নমত পোষণ করতে পারে, কতটা ন্যায়বিচার পায় এবং ক্ষমতাবানকে কতটা প্রশ্ন করতে পারে।

গণতন্ত্রের জীবন তাই ব্যালট বাক্সের বাইরে। সংসদের বাইরে। নির্বাচনি প্রচারণার বাইরেও। তার আসল বাস মানুষের প্রতিদিনের জীবনে—একজন নাগরিকের নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার, একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, একজন বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা, একজন সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা এবং একজন সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাওয়ার সাহসে।

ভোটের দিন গণতন্ত্রকে আমরা হাতে তুলে নিই; ভোটের পর প্রতিদিন সেটি বাঁচিয়ে রাখতে হয়। সেই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, শুধু আদালত বা সংবাদমাধ্যমেরও নয়—আমাদের সবার। কারণ একটি গণতন্ত্র কাগজে যতই সুন্দর হোক, নাগরিকের জীবনে যদি তার স্বাধীনতার স্পন্দন না থাকে, তবে সেটি শুধু একটি ব্যবস্থা; জীবন্ত গণতন্ত্র নয়।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।
drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএফএ/এএসএম

Original Source
https://www.jagonews24.com/opinion/article/1157317
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in Business