টাকা না পেয়ে সন্তান নিয়ে উধাও মাদকাসক্ত বাবা
একটি শিশুর অপেক্ষায় কেটে যাচ্ছে মায়ের প্রতিটি দিন। ১১ মাসের মেয়েকে ফিরে পেতে পথ চেয়ে আছেন মা রুমানা আক্তার। গত ১৭ জুলাই বিকেলে তার বাবার বাসায় যান স্বামী হামিদুল মিয়া। এরপর শিশুকে কোলে নিয়ে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। তারপর থেকে আর ফিরে আসেননি শিশুসহ হামিদুল। গাইবান্ধা সদর উপজেলা পৌরসভার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
১১ মাস বয়সি ফাতেমা আক্তার জান্নাতের জন্য দিনরাত চোখের জলে ভাসছেন অসহায় মা রুমানা। তার দাবি, নেশার জন্য ১০ হাজার টাকা না দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তার স্বামী হামিদুল। এমনকি মোবাইল ফোনে সন্তান বিক্রির হুমকিও দেন বলে অভিযোগ তুলছেন রুমানা আক্তার। দ্রুত প্রশাসনের মাধ্যমে তার মেয়েকে উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে হামিদুল মিয়া ও রুমান আক্তারের বিয়ে হয়। দুই তিন মাস সংসার ভালোভাবে চললেও প্রায় সময় মাদক সেবন করে রুমানাকে মারধর করতেন হামিদুল। নির্যাতন সহ্য করেও রুমানা সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সন্তান হওয়ার কিছুদিন পর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে রুমানা তার বাবার বাড়িতে সন্তানটি নিয়ে চলে আসেন। পাঁচ মাস পর হামিদুল রুমানার বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। রুমানা একাধিকবার হামিদুলকে মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনার দুই দিন পর মুঠোফোনে রুমানাকে সন্তান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দশ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে সন্তানকে বিক্রি করার হুমকিও দেন। দুই মাস পার হয়ে গেলে রুমানা থানায় অভিযোগ ও আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেও তার সন্তানকে ফেরত পাননি। এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি দ্রুত তার সন্তানকে প্রশাসন উদ্ধার করে যেন মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়।
রুমানা অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। নিখোঁজের দুই দিন পর বিকেলে মোবাইলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল মিয়া। অভাবের কারণে সেই টাকা দিতে পারেননি রুমানা। এমনকি শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে কি না- এ নিয়েও শঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীর আরও দুটি বউ আছে বলে জানতে পেরেছি। আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তাটিকে ফেরত চাই। সে আমাকে সন্তান বিক্রির হুমকি দিয়েছে। কি যে অবস্থায় আছে আমার সন্তান, খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
এদিকে ঘটনার পর আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন রুমানা খাতুন। মামলা করার পরেও সন্তানকে না পেয়ে দিশাহারা রুমানা। এখন পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করা হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হামিদুল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। পেলে ব্যবস্থাসহ শিশুটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করব।
আনোয়ার আল শামীম/এফএ


