কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে কয়বার ধুয়ে পাক করতে হবে?
প্রশ্ন: কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে কয়বার ধুয়ে পাক করতে হবে?
উত্তর: কুকুরের লালা নাপাক। কুকুরের লালা যদি কাপড়ে লাগে, তাহলে অন্যান্য নাপাকির মতোই তিনবার ধুয়ে ওই কাপড় পাক করতে হবে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুকুর যদি কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তাহলে সেই পাত্রের জিনিস ফেলে দিয়ে তিনবার ধুয়ে নাও। (সুনানে দারাকুতনি: ১৯৬)
মনসুর (রহ.) থেকে বর্ণিত ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেছেন, কোনো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে পাত্রটি এ পরিমাণ ধুয়ে নেবে, যাতে তা পরিপূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ১৮৪৩)
উল্লেখ্য যে, কোনো প্রয়োজন ছাড়া শখ করে কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজন থাকলে যেমন বাড়িঘর, ক্ষেত-খামার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, অপরাধের উৎস অনুসন্ধান বা অপরাধী চিহ্নিত করা, শিকার করা ইত্যাদির জন্য কুকুর পোষা বৈধ।
রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে ওই ব্যক্তির প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়। (সহিহ মুসলিম: ১৫৭৫)
এ হাদিস এবং আরও কিছু হাদিসে সওয়াবের পরিমাণ বোঝাতে ‘কিরাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ‘কিরাত’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘‘কিরাত’ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ যা আল্লাহ তাআলা জানেন।’ অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে কুকুর পুষলে আমলনামা থেকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু পরিমাণ সওয়াব কমে যেতে পারে।
তবে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সব জীবজন্তুর মতোই কুকুর প্রতি দয়া করা, কুকুরকে খাবার-পানি দেওয়া, কোনো বিপদে পড়লে উদ্ধার করা সওয়াবের কাজ। বিপদজনক বা ক্ষতিকর না হয়ে উঠলে কুকুরকে কোনোভাবে কষ্ট দেওয়া, হত্যা করা গুনাহের কাজ।
হাদিসে এসেছে, বনি ইসরাইলের এক ব্যাভিচারী নারী কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলো। রাসুল (সা.) বলেন, একবার এক তৃষ্ণার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তৃষ্ণায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়। বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পেয়ে নিজের পায়ের মোজা খুলে মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এ কারণে তার আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি: ৩৪৬৭)
ওএফএফ




