নামজারিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, ২০ হাজারে সমঝোতা
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি করতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
চারটি নামজারির জন্য প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও, পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় সমঝোতার অভিযোগ করেছেন মহিউদ্দিন খন্দকার নামের এক সেবাপ্রত্যাশী।
অভিযোগকারীর দাবি, সমঝোতার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার হাতে প্রথম কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওতে টাকা নেওয়া ও গোনার দৃশ্যসহ অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, গত ২০ মে ২০২৬ ভূমি মেলার সময় ছয়টি দলিলের নামজারির জন্য তিনি রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহানের কাছে যান। এ সময় তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা দেন। বাকি ১০ হাজার টাকা নামজারির কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চারটি আবেদনের মধ্যে মাত্র একটি নামজারি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি মহিউদ্দিনের। বাকি আবেদনগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলেন।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিওতে দেখা যায়, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহানের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরে ওই ব্যক্তি টাকা গুনে নিজের কাছে রাখছেন। ভিডিওতে নামজারি ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনও রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একটি নামজারির নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। সে হিসাবে চারটি নামজারির সরকারি ফি ৪ হাজার ৬৮০ টাকা। সেখানে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহান। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খন্দকার তার কাছে আসেননি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্রও তার কাছে জমা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সোবাহান কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষ না হওয়ায় তার আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করা রয়েছে। তবে তিনি মাঝেমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে কাজ করেন।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। ইতোমধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।’
মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/এএসএম
