সুইডেনে এগিয়ে মধ্য-বাম জোট, সরকার গঠন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা
নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সুইডেন
সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে মধ্য-বাম বিরোধী জোট এখন তিন আসনের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। রোববারের নির্বাচনের অধিকাংশ ভোট গণনা শেষে দেশটির ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে জোটটি ১৭৬টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ১৭৩টি আসন।
সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, দেশটির ৬ হাজার ৩১২টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ৬ হাজার ১৯৫টির ভোট গণনা হয়েছে। দুই জোটের ভোটের ব্যবধান সোমবার সকালে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।
প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এই ফল বহাল থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠিত হবে।
তবে এখনো কোনো পক্ষই চূড়ান্তভাবে জয় বা পরাজয় দাবি করছে না। ৩৫৩টি নির্বাচনি এলাকার ফল এখনো বাকি রয়েছে। বিদেশে দেওয়া ভোটও বুধবারের আগে পুরোপুরি গণনা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সুইডেনে সংসদ নির্বাচন, এগিয়ে বিরোধী জোট
২০২২ সালের নির্বাচনেও প্রথম দিকে এক্সিট পোলে মধ্য-বাম জোটকে সামান্য এগিয়ে দেখা হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত ফল বদলে যায় এবং উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এবারও বাকি ভোটে ব্যবধান বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দলগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটস প্রায় ১১টি আসন হারাতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে। গত চার বছর ধরে দলটি ক্রিস্টেরসন সরকারের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ডানপন্থি জোট ক্ষমতায় থাকলে এবার প্রথমবারের মতো সরকারে যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা ছিল দলটির।
মধ্য-বাম জোটের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সরকার গঠন সহজ নাও হতে পারে।

সেন্টার পার্টি লেফট পার্টির সঙ্গে একই সরকারে যেতে রাজি নয়। অন্যদিকে লেফট পার্টি জানিয়েছে, যে কোনো জোট সরকারে তাদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ফলে সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে।
সুইডেনের পার্লামেন্টের স্পিকার আন্দ্রেয়াস নোরলেন দেশটির টেলিভিশনকে বলেন, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বেশ জটিল হতে পারে।
নির্বাচনের ফল সুইডেনের পশ্চিমাপন্থি ও ইউক্রেন-সমর্থক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন নির্বাচনি প্রচারে কল্যাণ খাতে ব্যয় বাড়ানো, আরও ন্যায্য করব্যবস্থা এবং সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। গ্রিন পার্টি ও লেফট পার্টি ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায়ের পক্ষে থাকলেও সেন্টার পার্টি বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর আরোপের বিরোধিতা করছে।
অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও কম। লেফট ও গ্রিন পার্টি তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে থাকলেও অ্যান্ডারসন বলেছেন, সুইডেনকে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখতে হবে। চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে বাকি নির্বাচনী এলাকার ফল এবং বিদেশ থেকে আসা ভোট গণনার ওপর।
এমআরএম
