জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন
লম্বা, ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের আকাঙ্ক্ষা কমবেশি সবারই থাকে। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ততা, পরিবেশের দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা চুলের প্রতি প্রয়োজনীয় যত্নের অভাবে অনেকেরই চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ ও ভঙ্গুর। বাড়তে থাকে চুল পড়ার সমস্যাও।
তখন কেউ দামি শ্যাম্পু, কেউ সিরাম আবার কেউ নানা ধরনের হেয়ার মাস্কের ওপর ভরসা করেন। অথচ চুলের যত্নে সবসময় দামি পণ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাসও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
চুলের যত্নে জাপানি রুটিনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় স্ক্যাল্পের পরিচর্যা, কোমলভাবে চুল পরিষ্কার করা এবং ভেজা চুলের সঙ্গে সাবধানী আচরণে। অর্থাৎ শুধু চুলের ওপরের অংশ সুন্দর দেখালেই হবে না, চুল যে জায়গা থেকে বেড়ে ওঠে সেই স্ক্যাল্পকেও রাখতে হবে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ। বাড়িতেই খুব সহজে এই অভ্যাসগুলোর কিছু অনুসরণ করা যায়।
চুলের যত্নে জাপানি সৌন্দর্য রহস্য, ক্যামেলিয়া তেল
শ্যাম্পুর সময় স্ক্যাল্পে আলতো ম্যাসাজ
চুল পরিষ্কার করার সময় শুধু চুলের গোড়ায় শ্যাম্পু মেখে দ্রুত ধুয়ে ফেললেই হবে না। স্ক্যাল্পও পরিষ্কার করা জরুরি। শ্যাম্পু করার সময় আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে পারেন। মাথার সামনের অংশের পাশাপাশি ওপরের ও পেছনের অংশেও আলতোভাবে আঙুল চালান।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করার সময় নখ ব্যবহার করবেন না। নখ দিয়ে ঘষাঘষি করলে মাথার ত্বকে আঁচড় বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করাই ভালো। এতে স্ক্যাল্প পরিষ্কার করার পাশাপাশি শ্যাম্পু ছড়িয়ে দিতেও সুবিধা হয়।
শ্যাম্পুর আগে অল্প তেল
চুল ধোয়ার আগে অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহারের অভ্যাস অনেকের চুলের যত্নের রুটিনে থাকতে পারে। চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত তেল অল্প করে ব্যবহার করলে শুষ্কতা কমাতে এবং চুলকে নরম রাখতে সাহায্য করতে পারে। চুলের জন্য ক্যামেলিয়া তেল জনপ্রিয় জাপানি হেয়ার ট্রিটমেন্ট অয়েল। এই হালকা তেলটি কোনো অবশিষ্টাংশ না রেখে চুলের গোড়ায় গভীরভাবে প্রবেশ করে। জাপানিরা ভেজা চুলে কয়েক ফোঁটা এই তেল লাগান, বিশেষ করে চুলের মাঝের অংশ এবং আগায়। জাপানি হেয়ার অয়েলগুলো ভারী, তৈলাক্ত অনুভূতি ছাড়াই চুলে উজ্জ্বলতা ও সুরক্ষা যোগ করে।
ভেজা চুলে তোয়ালে চালাবেন আলতো হাতে
চুল ধোয়ার পর ভেজা চুল নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল করেন অনেকেই। মাথার পানি দ্রুত শুকানোর জন্য তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষতে থাকেন। কিন্তু ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে নাজুক থাকে। তাই এভাবে ঘষাঘষি করলে চুলের ওপর অতিরিক্ত টান পড়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে ঘষার পরিবর্তে আলতো করে চেপে অতিরিক্ত পানি শুষে নিন। নরম তোয়ালে বা মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার ও নরম সুতির টি-শার্টও এক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে। এতে ভেজা চুলের ওপর অপ্রয়োজনীয় ঘর্ষণ কমানো সম্ভব।
চাল ধোয়া পানি দিয়ে চুলের যত্ন
চাল ধোয়া পানি দিয়ে চুলের যত্ন নেওয়ার চল জাপানে অনেক পুরোনো। ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চার এই পদ্ধতিতে চাল ধোয়ার পর পাওয়া পানি ব্যবহার করা হয় চুলের যত্নে। চালের পানিতে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদান চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে প্রথমে চাল ভালোভাবে ধুয়ে সেই পানি একটি পরিষ্কার পাত্রে নিতে হবে। এরপর পানিটি ঢেকে ১২-২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা জায়গায় রেখে দেওয়া হয়। পরে চুলে শ্যাম্পু করার পর শেষবার চুল ধোয়ার সময় এই চাল ধোয়া পানি ব্যবহার করা যায়।
চাল ধোয়া পানি চুলে দেওয়ার পর কয়েক মিনিট রেখে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে কারো কারো চুল তুলনামূলকভাবে নরম ও মসৃণ হবে।
অতিরিক্ত গরমে চুল শুকাবেন না
হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে তাপমাত্রার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত গরম বাতাস চুলের আর্দ্রতা কমিয়ে সেটিকে আরও শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে।
তাই ড্রায়ার ব্যবহারের আগে তোয়ালে দিয়ে চুলের অতিরিক্ত পানি আলতোভাবে শুষে নিন। এরপর প্রয়োজন হলে কম বা মাঝারি তাপমাত্রায় ড্রায়ার ব্যবহার করুন। ড্রায়ার চুলের একেবারে কাছে ধরে দীর্ঘ সময় একই জায়গায় গরম বাতাস দেবেন না। সম্ভব হলে কিছুটা দূরত্ব রেখে ড্রায়ার নড়াচড়া করে ব্যবহার করুন।
চুলের পাশাপাশি স্ক্যাল্পকেও গুরুত্ব দিন
জাপানি হেয়ার কেয়ারের এই অভ্যাসগুলো থেকে মূল যে বিষয়টি শেখা যায়, তা হলো-চুলের যত্ন শুধু চুলের দৈর্ঘ্য বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা, চুলের সঙ্গে কোমল আচরণ করা এবং অতিরিক্ত তাপ ও ঘর্ষণ এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
চুল পড়ার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে, দীর্ঘদিন চুল পাতলা হতে থাকলে কিংবা স্ক্যাল্পে চুলকানি, খুশকি বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে নিজের মতো করে একের পর এক পণ্য ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ভোগ
এসএকেওয়াই




