ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ
মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের প্রায় ৯০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী মালের কাছাকাছি হুলহুমালে দ্বীপে একটি বৃহৎ মসজিদ নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়েছে।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদ কমপ্লেক্সে ইসলামি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কুরআন জাদুঘরও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মসজিদটির নাম রাখা হবে ‘জামি আস-সুলতান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ’। মালদ্বীপ যে শাসকের আমলে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তার নাম অনুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হচ্ছে।
হুলহুমালে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মুইজ্জু, ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ শাহিম আলী সাঈদ, হাউজিং ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এইচডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী জুহাইরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্মাণকাজে যুক্ত সৌদি প্রতিষ্ঠান আল রাজির প্রধান নির্বাহী বন্দর আবদুল্লাহ এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ইয়াহইয়া হাসান আল-কাহতানিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মালদ্বীপের ইতিহাসে ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দেশটিতে ইসলাম প্রচলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুলতান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর নাম। তার শাসনামল থেকেই মালদ্বীপে ইসলাম রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই নতুন মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে।
নতুন এই মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে নয়, ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামি শিক্ষার সুযোগ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং কুরআনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য জাদুঘর থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হুলহুমালেতে নির্মিতব্য এই মসজিদ ভবিষ্যতে মালদ্বীপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় পরিণত হবে। একই সঙ্গে এটি দেশটির ইসলাম গ্রহণের দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথচলার একটি স্মারক হিসেবেও বিবেচিত হবে।
এমআরএম

