সম্পর্ক সহজ করতে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরতের আহ্বান

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বর্বরতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনাসহ বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের ক্ষ...

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত বর্বরতার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের স্বার্থে শেখ হাসিনাসহ বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় পড়ার বিষয়ে (পরে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ) এক প্রশ্নের উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনা ও অন্যদের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকেই চাইছি, আমরা ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের চাইবো না কেন? আমি এজন্য ভারত সরকারের কাছেও আহ্বান জানাতে চাই যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, শুধু শেখ হাসিনা নন, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদেরও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে ফেরত চাওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের ‘বর্বরতা’ শুধু জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছিল এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বর্বরতা বহু আগে থেকে চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ সেই বর্বরতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা অন্য দেশের মাটিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট দেয় এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডও করছেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করি ভারত সরকার আমাদের এই সেনসিটিভিটিটা বুঝবেন এবং তাদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করবেন। আমাদের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাবো। না চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া কী ছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হাইকমিশনার বিষয়গুলো শুনেছেন এবং ইস্যু রয়েছে এটি তিনি স্বীকার করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, উনি স্বীকার করেন ইস্যুজ আছে। এটা আমার কাছে একটা পজিটিভ পয়েন্ট মনে হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি ও সম্পৃক্ততার ওপর ভারতীয় হাইকমিশনার জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একে অপরের সংবেদনশীলতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। 

এ সময় শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সংবাদ সম্মেলন বাতিলের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

পুলিশি অভিযানে ভুল হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা

পুলিশের অভিযানে সাধারণ মানুষকে ধরে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা সমস্যা নেই এমন দাবি করা ঠিক হবে না। তবে এ ধরনের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটছে এমন ধারণার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন।

তিনি বলেন, কিছু ঘটনা ঘটছে, কিন্তু এটা এত ওয়াইডস্প্রেড না।

পুলিশ কোনো ভুল বা ইচ্ছাকৃত অন্যায় করলে অভিযুক্ত ব্যক্তির আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে সরকার বিশ্বাস করে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি ভুল করতে পারেন, এমনকি কারও ওপর অন্যায়ভাবে নিপীড়নও হতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনা যেন ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা করবে।

সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন করার আহ্বান

মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার এবং আদালতে জামিন না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা যায় না। কারণ আদালত রাষ্ট্রের একটি পৃথক অঙ্গ।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন করা হলে তা বিচার বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজরে আসবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, একটা ডেমোক্রেটিক কান্ট্রির জন্য, প্রসেসের জন্য জার্নালিজমকে ফোর্থ এস্টেট বলে। আপনারা এই কথাগুলো, আপনারা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে যদি রিপোর্ট তৈরি করেন, আমি বিশ্বাস করি যিনি বিচার বিভাগের অভিভাবক আছেন, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি, তার নজরে আসবে। তিনি সেই ব্যাপারগুলো খতিয়ে দেখবেন।

এমএএস/ইএ

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1157389
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World