দীর্ঘসময় লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ছাড়াই ফোন চার্জ রাখার ৪ উপায়
দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে, তারও ঠিক নেই। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইলের ব্যাটারি যদি দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাহলে বিপদে পড়তে পারেন।
কারণ এখন ফোন শুধু কথা বলার মাধ্যম নয় জরুরি যোগাযোগ, খবর জানা, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজেই এটি প্রয়োজন হয়। তাই বিদ্যুৎ না থাকলেও ফোনের চার্জ সচল রাখার বিকল্প ব্যবস্থা জানা থাকলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
পাওয়ার ব্যাঙ্ক হতে পারে সবচেয়ে সহজ সমাধান
লোডশেডিংয়ের সময় ফোন চার্জ রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো পাওয়ার ব্যাঙ্ক। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই সেটি পুরোপুরি চার্জ করে রাখুন। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কথা মাথায় রেখে সম্ভব হলে বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাঙ্ক হাতের কাছে রাখা যেতে পারে।
তবে পাওয়ার ব্যাঙ্কও যে সব সময় চার্জে থাকবে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবহার করার পর সেটি আবার চার্জ করে রাখুন। প্রয়োজনের সময় পাওয়ার ব্যাঙ্কে চার্জ না থাকলে তখন আর সেটি কাজে আসবে না।
গাড়ির সাহায্যে ফোন চার্জ করুন
বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলেও গাড়ি থাকলে সেটি সাময়িক চার্জিংয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাড়ির ইউএসবি পোর্ট বা ১২ ভোল্টের চার্জিং সকেটে উপযুক্ত চার্জার লাগিয়ে ফোন চার্জ দেওয়া সম্ভব।
তবে ফোন চার্জ করার সময় গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখা ভালো, যাতে দীর্ঘক্ষণ চার্জ দিতে গিয়ে গাড়ির ব্যাটারি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুর্বল না হয়ে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বন্ধ গ্যারেজ বা অন্য কোনো আবদ্ধ জায়গায় ইঞ্জিন চালু রাখবেন না। এতে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস জমে বিপদ হতে পারে।
ল্যাপটপেও পাওয়া যেতে পারে ব্যাকআপ চার্জ
লোডশেডিং শুরুর আগে যদি ল্যাপটপে পর্যাপ্ত চার্জ থাকে, সেটিকেও ফোনের জন্য অস্থায়ী পাওয়ার সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়। উপযুক্ত ইউএসবি পোর্ট ও কেবল থাকলে ল্যাপটপ থেকে ফোনে চার্জ দেওয়া সম্ভব।
অবশ্য ওয়াল চার্জারের তুলনায় ল্যাপটপ থেকে ফোন চার্জ হতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ব্যাটারি একেবারে শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি প্রয়োজনের সময় কিছুটা চার্জ তুলে নেওয়াই ভালো। দীর্ঘ লোডশেডিং চললে ল্যাপটপের নিজের ব্যাটারিও অপ্রয়োজনীয়ভাবে খরচ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
রোদ থাকলে ব্যবহার করুন পোর্টেবল সোলার চার্জার
দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে পোর্টেবল সোলার চার্জার কাজে লাগতে পারে। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে এই ধরনের ডিভাইস ফোনের মতো ছোট ইলেকট্রনিক গ্যাজেট চার্জ করতে পারে।

ফোন চার্জ হয়ে গেলে ক্যাবল কীভাবে খোলেন?
তবে এর কার্যকারিতা সরাসরি সূর্যের আলোর ওপর নির্ভর করে। মেঘলা আবহাওয়া বা কম আলোতে চার্জিং ধীর হতে পারে। তাই এটিকে জরুরি বিকল্প হিসেবে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা ভালো।
তবে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে শুধু চার্জ দেওয়ার বিকল্প জানলেই হবে না, হাতে থাকা ব্যাটারিও যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ফোনের ব্যাটারি সেভার বা পাওয়ার সেভিং মোড চালু করুন। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিন এবং প্রয়োজন না থাকলে ব্লুটুথ, জিপিএস, হটস্পট ও মোবাইল ডাটার মতো ফিচার বন্ধ রাখুন।
সবচেয়ে ভালো হয়, লোডশেডিং দীর্ঘ হতে পারে বুঝতে পারলে ফোনের ব্যাটারি ০ শতাংশে নামার আগেই চার্জের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি অরিজিনাল বা অনুমোদিত চার্জার ও কেবল ব্যবহার করুন।
দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চললে আগে থেকেই একটি চার্জ করা পাওয়ার ব্যাঙ্ক, গাড়ির চার্জিং ব্যবস্থা কিংবা সোলার চার্জার প্রস্তুত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে বিদ্যুৎ না থাকলেও জরুরি মুহূর্তে ফোন সচল রাখা অনেক সহজ হবে।
কেএসকে



