সভাপতি শেখ হাসিনার পর সাধারণ সম্পাদক কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
  ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর প্রায় ১০ মাস পর একই সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়...

 

ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর প্রায় ১০ মাস পর একই সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বেলা ১২টা ১০ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ৫৫৭ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। রায় পড়ার শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। সবশেষে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানেরও মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার সাত আসামিই পলাতক।

পাঁচ আসামির সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদদের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাত আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সরকার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমনের উদ্যোগ নেয়। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ডে উসকানি, অর্থের জোগান ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উৎসাহিত করা এবং সশস্ত্র নেতাকর্মীদের হামলা ও হত্যার নির্দেশনা, পরামর্শ ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।

এ ছাড়া আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ, আন্দোলনের সহিংসতার ছবি প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণার হুমকির অভিযোগও রাষ্ট্রপক্ষ তুলে ধরে।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানিয়েছিল, মামলায় বিভিন্ন কল রেকর্ড, নথিপত্র, জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, সাত আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত।

কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাজা
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এবং পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার আহ্বানের বিষয়গুলো রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে ওবায়দুল কাদেরের ১ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৩ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্য আসামিদের অভিযোগ ও সাজা
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ২ নম্বর অভিযোগে খালাস এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ নম্বর অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে।

শেখ ফজলে শামস পরশের ১ নম্বর অভিযোগে খালাস, ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে হলো বিচার
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন করেছিল। অন্যদিকে আসামিপক্ষ তাদের খালাস চেয়েছিল।

শেখ হাসিনার রায়ের পর কাদেরদের সাজা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এর প্রায় ১০ মাস পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের আরও পাঁচ নেতা এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হলো।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রায়টি এ ধারাবাহিকতার সপ্তম রায়।

দুটি ট্রাইব্যুনালের সাতটি রায়ে এ পর্যন্ত ৬৮ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ২২ আসামির মধ্যে ১৮ জন পলাতক এবং চারজন কারাগারে আছেন।

এফএইচ/জেএইচ

 

Original Source
https://www.jagonews24.com/law-courts/news/1157429
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World