রংপুরে কাঁচামরিচের কেজি ১৫০ টাকা, চড়া সবজির বাজার
রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। সেইসঙ্গে দাম বেড়েছে কাঁচামরিচসহ আটা-ময়দার। তবে দাম কমেছে আলু ও চালের। এছাড়া ডিম ও মাছ- মাংস অপরিবর্তিত রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচ ৭০-৮০ টাকা থেকে লাফিয়ে ১৩০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিহালি ডিম খুচরা বাজারে গত সপ্তাহের মতোই বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা।
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা থেকে কমে ১০০-১২০ টাকা, গাজর গত সপ্তাহের মতোই ১২০-১৪০ টাকা, কাঁকরোল গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, ঝিংগা ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা, মূলা গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০-৩০ টাকা, সজনে ডাঁটা ১৪০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা, শসা ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫০ টাকা, লেবুর হালি ১০-১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫-২০ টাকা, চিকন বেগুন ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন গত সপ্তাহের মতোই ৭০-৮০ টাকা, পটল ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫০ টাকা।
এছাড়া ঢ্যাঁড়স গত সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা থেকে কমে ২০-২৫ টাকা, শিম ১২০-১৬০ থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকা, বরবটি আগের মতো ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৩০-৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, কচুরমুখী ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, কচুরলতি ৫০-৬০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা গত সপ্তাহের মতোই ১৮০-২০০ টাকা, রকমভেদে শাকের আঁটি ১০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৪৫০-৫০০ টাকা, কার্ডিনাল আলু ২০-২২ টাকা, দেশি সাদা আলু ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ২৮-৩০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা টাকা থেকে কমে ২৮-৩০ টাকা, শিল আলু গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া দেশি নতুন আদা ১২০-১৪০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন আগের মতো ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা ভুট্টু মিয়া বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে দুই-একটি সবজির দাম বাড়া-কমা হলেও অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ গতকাল ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ ১৩০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় এমনটা হচ্ছে।
এদিকে, মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগির দাম সামান্য কমে ৩১০-৩২০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৮০- ২৯০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৪০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০৫-২১০ টাকা
এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৬০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল (চিকন) ১৬০-১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০-১৮০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১১০-১১৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১১০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৬৫ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০-৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
টার্মিনাল বাজারের মুদি দোকানি হারুন মিয়া বলেন, আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। কোম্পানি ও পাইকারি বাজার থেকে গত কয়েকদিন ধরে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তারা দাম বাড়ালে আমাদেরকেও বাড়াতে হয়।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৫৮ টাকা থেকে কমে ৫২-৫৫ টাকা, বিআর২৮- ৬০-৬৫ টাকা থেকে কমে ৫৮-৬০ টাকা, বিআর২৯- ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫৫-৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৫-৮০, নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা এবং খোলা আতপ চাল ২০০-২১০ টাকা ও প্যাকেট চাল ২৩০ টাকা
কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ গত সপ্তাহের মতোই ২৫০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৪০০-৬০০, কই ২০০-৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, কারপু ২০০-৩০০ টাকা, পাঙাস ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২২০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৫০-২৫০ টাকা, শিং ৩০০-৫০০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০-২৫০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/এনএইচআর



