অচেতন করে ২০ বছর ধরে স্ত্রীকে ধর্ষণ, আদালতে দোষ স্বীকার
এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে না জানিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করার পর ২০ বছর ধরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
যুক্তরাজ্যে ম্যানচেস্টারের মিনশুল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে ওই ব্যক্তি একাধিক ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং ক্ষতির উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে কোনো পদার্থ প্রয়োগ করার অভিযোগসহ মোট ৬০টি অপরাধে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করেন।
আইনি কারণে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। একই কারণে তার স্ত্রীর পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
আদালতে শুনানির সময় ওই নারী পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে দর্শক সারিতে বসে পুরো কার্যক্রম দেখেন।
আদালতে বারবার ‘দোষী’ স্বীকার
ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি যখন একের পর এক অভিযোগের জবাবে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করছিলেন, তখন তাকে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায়।
বিচারকের সামনে তিনি কয়েক ডজন অভিযোগে ‘দোষী’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। এর মধ্যে ছিল একাধিক ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে কোনো পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ।
একপর্যায়ে আদালতের বিচারক তাকে কাঠগড়ায় বসে পড়ার অনুমতি দেন।
ওই ব্যক্তি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্ট এলাকার বাসিন্দা। কয়েক দশক ধরে তিনি ওই নারীর সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন।
২০০৪ সাল থেকে নির্যাতনের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীর ওপর তার স্বামীর নির্যাতন শুরু হয়েছিল ২০০৪ সাল থেকে এবং তা প্রায় দুই দশক ধরে চলেছে।
অন্যদিকে একই নারীর ওপর যৌন অপরাধের অভিযোগে আরও ১২ জন পুরুষের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তারা প্রত্যেকেই গুরুতর একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই ১২ জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
আরেকজন পুরুষ এর আগে ওই নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন।
বিচার শেষে হবে সাজা
স্বামী যেসব অভিযোগ স্বীকার করেছেন, সেসব অপরাধের জন্য তার সাজা বিচার চলমান মামলার শেষ পর্যায়ে ঘোষণা করা হবে।
একই নারীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা এসব অপরাধের বিচার যুক্তরাজ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। মামলায় মূল অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সময়কাল প্রায় ২০ বছরজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় ঘটনাটির ভয়াবহতাও সামনে এসেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি
এমএসএম


