ইরানে ভাঙা পিঠ নিয়ে ৫০ ঘণ্টা, মার্কিন সেনা উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ
আকাশ থেকে নিচে পড়ার সময় প্যারাসুট কাজ করেনি মার্কিন বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তার। মাটিতে পড়ে পিঠ, হাত ও কাঁধে গুরুতর আঘাত পান তিনি। এরপরও থামেননি। আহত অবস্থায় উঠে যান প্রায় সাত হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ি এলাকায়।
সেখানে প্রায় ৫০ ঘণ্টা থাকার পর তাকে উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ব্রাভো।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘প্যারারেস্কিউ’ বা পিজেসের দুই সদস্য ব্রাভোর কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করছেন। নিরাপত্তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত পরিচয়সংকেত অনুযায়ী তাকে ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে শনাক্ত করা হয়েছিল। গত এপ্রিলে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোহগিলুয়ে ও বয়ের-আহমাদ প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।
Bravo says the airmen who worked on his equipment did “an incredible job.” Despite the damage from an Iranian missile to the aircraft, including the ejection seat, he says he was able to eject safely - thereby saving his life. “I call that a testament to their professionalism,” he said. https://t.co/AZQlq1bpy9
— 60 Minutes (@60Minutes) September 14, 2026
তখন ব্রাভো এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানে ছিলেন। কাঁধ থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে তার প্যারাসুটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে, তিনি নিচে পড়ে যান এবং পিঠ, এক হাত ও কাঁধে গুরুতর আঘাত পান। গোড়ালিতে মচকায়। মাথা ও মুখেও আঘাত লাগে।
তবে, আহত অবস্থাতেও তিনি সেখান থেকে দ্রুত সরে যান। সঙ্গে ছিল একটি পিস্তল, যোগাযোগের যন্ত্র ও ট্র্যাকিং বীকন। এগুলো নিয়ে প্রায় সাত হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ি এলাকায় উঠে যান তিনি। সেখানে লুকিয়ে থাকার মতো একটি জায়গা খুঁজে নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন।
তিনি বলেন, প্যারাসুটটি ঠিকমতো কাজ না করায় একসময় ওপরে তাকান। কিন্তু, তখন প্যারাসুটটি দেখতে পাননি তিনি। ওই মুহূর্তটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ব্রাভোর সঙ্গে একই বিমানে থাকা পাইলট ‘আলফা’ প্রায় তিন মাইল দূরে মাটিতে পড়েন। তার সামান্য আঘাত লাগে। দিনের বেলায় চালানো এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাকে প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়।
তবে, ব্রাভো তখনও নিজের অবস্থান থেকে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
একপর্যায়ে পেন্টাগনে বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন ব্রাভো। পরে, সিআইএর প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর দুই মার্কিন উদ্ধারকারী কর্মকর্তা তার কাছে পৌঁছান এবং তাকে উদ্ধার করে একটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান। সাক্ষাৎকারে উদ্ধারকারীদের দেখতে পাওয়ার মুহূর্তটিকে জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত বলে জানিয়েছেন ব্রাভো।
এদিকে, পুরো উদ্ধার অভিযানে ৯০ জনের বেশি বিশেষ বাহিনীর সদস্য ও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি অস্থায়ী মরুভূমির রানওয়ে থেকে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। এসব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধারের কাজ চালানো হয় বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
এমডিআরএইচ/


