সফল হওয়ার গোপন মন্ত্র
তনুশ্রী গাইন প্রিয়াঙ্কা
কোনো ঘটনার আরম্ভ বলে দেয় উপসংহার কি হবে। কিন্তু প্রাথমিক সময়ে এই বিষয়ে অবগত ছিলাম না। ব্যস্ত ছিলাম কেবল শিশুসুলভ সময়ের প্রতি। তবে সময় আজ স্পষ্ট, নিরব কেবল প্রাচীন সময়ে মানুষের মুখসৃত বাক্য।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শব্দমালা
মেঘ রৌদ্র মিশ্রিত সময়। ক্লাসে মোশাররফ স্যার। বাংলা ক্লাস নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে বৃষ্টি শুরু হলো। ক্লাসের সবাই এক স্বরে বলে উঠল ‘খেঁকশিয়ালের বিয়ে’। চোখে মুখে তখন আনন্দের জয়গান। স্যার আগামী দিনের পড়া দিয়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলেন। কোনোকিছু চিন্তা ভাবনা না করে খাতা কলম নিয়ে হিজিবিজি কিছু একটা লিখে ফেললাম। সহপাঠী বলে উঠল ‘দেখ দেখ প্রিয়াঙ্কা ছড়া লিখেছে’।

নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে
মাধ্যমিকে অনুপ্রবেশ
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হানিফ স্যার খেয়াল করলেন, ব্যাগের ভারে নুয়ে পড়ছি। স্যার জানতে চাইলেন, ব্যাগে কি আছে। একদল সহপাঠী কিছুটা জোরজবরদস্তি করে ব্যাগ খুলল। দেখল ক্লাসের বই, খাতা, কলম, পাঁচটি পাথরের অংশ বিশেষ এবং একটি ডায়ারি। স্যার ডায়ারি নিয়ে তার কাছে যেতে বললেন এবং খাতা খুলে দেখলেন নিজস্ব কথাবার্তা গুছিয়ে উপস্থাপন করার বৃথা চেষ্টা। স্যার প্রশংসা করলেন তবে মিথ্যা প্রশংসা। কারণ মিথ্যা স্যারের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এই বিষয়ে ক্লাসের সবাই অবগত। মন ভেঙে গেলো। কারণ সময়ের শুরু থেকে সত্য আমাকে আলিঙ্গন করেছে।
উচ্চ মাধ্যমিকের জীবন যাত্রা
উচ্চ মাধ্যমিকের সময়টা বেশ চমকপ্রদ ছিলো। ইতিবাচক মানুষদের সাথে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। ক্লাস, সংগীত, স্কাউট এবং মঞ্চ নাটক ছিলো জীবনের এক অংশ। সাহিত্য চর্চার বিষয়টি সবার থেকে আড়ালের চেষ্টা। তবে শরৎ সমগ্র এসে বলল, অনেক হয়েছে এবার আমাকে সময় দেও।
অনার্স জীবনের কথোপকথন
সময়টা ছিলো মানুষের প্রেমে পড়ার। কিন্তু শব্দ পিছু ছাড়লো না। ব্যক্তি নিরুপায়। সময় তখন রাজা। টুকটাক কবিতা লেখার পাশাপাশি প্রবন্ধ লেখার বিষয়টি ছিলো চলমান। মালদহ সমাচার পত্রিকায় প্রবন্ধ নিয়ে কাজ করার পর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। নিজেকে বললাম ‘তবে বাংলাদেশ কেন নয়?’। একটা একটা করে পাঁচটি যৌথ কাব্যগ্রন্থে কাজ করার পর, সবকিছু অনর্থক মনে হচ্ছিল। পড়াশোনা ছাড়া উপায় নেই। কিছু মানুষ বলে উঠল ‘দুটো কবিতা লিখে পেট চলবে না’। কথার বাণে হৃদয় ক্ষত বিক্ষত হলো। শব্দ এসে বলল, মন খারাপ করো না।
দন্ত্য-স কাব্যগ্রন্থের জয়যাত্রা
সময় পেলেই খাতা কলম নিয়ে বসে পড়া। একটা সময়ের পর কেউ যেন কানে ফিসফিস করে বলল ‘সামনে বইমেলা এখনও বসে আছ কেন?’ কবিতা নির্বাচন করার পর ঐকতান প্রকাশনীকে পাণ্ডুলিপি জমা দিলাম। প্রকাশনী সম্মতি দিল। অবশেষে ব্যক্তির নিজস্ব একটি বই প্রকাশ হলো। নাম তার দন্ত্য-স।
পৃথিবীতে বসবাসকৃত মানুষের জীবন দর্শন অদ্ভুত। উৎস প্রদান নয় বরং মন ভেঙে দেওয়ার জন্য সবাই সর্বদা প্রস্তুত।তবুও কেউ থেমে নেই। চলছে নিজস্ব নিয়মে। সফল হতেই হবে, আত্মতুষ্টির জন্য।
লেখক: সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরগুনা, বরিশাল।
এমআইএইচ



