শাড়িতে আলিয়া, রাজকীয় নীল সাজে রণবীর
পশ্চিমা পোশাক হোক কিংবা ঐতিহ্যবাহী শাড়ি-প্রতিটি সাজেই নিজের আলাদা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করেছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। কখনো ঝলমলে গাউন, কখনো মায়াবী শাড়ি, আবার কখনো একেবারে ছিমছাম পোশাকে তার উপস্থিতি হয়ে ওঠে নজরকাড়া।

জমকালো পোশাকের ভিড়েও আলিয়ার বিশেষত্ব হলো, তিনি সাজে কখনো অতিরিক্ত কিছু যোগ করেন না। বরং পোশাক, গয়না আর সৌন্দর্যের মধ্যে তৈরি করেন এক নিখুঁত ভারসাম্য। তার সাম্প্রতিক উৎসবের সাজেও ফুটে উঠেছে সেই চেনা মুগ্ধতা।

সম্প্রতি মুকেশ আম্বানি ও নীতা আম্বানির অ্যান্টিলিয়ায় আয়োজিত পূজার অনুষ্ঠানে সেই চেনা মুগ্ধতাতেই ধরা দিলেন আলিয়া। তবে এবার একা নন-তার পাশে ছিলেন স্বামী রণবীর কাপুরও।

আলিয়ার কোমল রঙের শাড়ির বিপরীতে রণবীরের গাঢ় নীল রাজকীয় সাজ তৈরি করেছিল দারুণ এক বৈপরীত্য। দুজনকে একসঙ্গে দেখে যেন ঐতিহ্যবাহী আভিজাত্য আর আধুনিক ফ্যাশনের এক নিখুঁত যুগলবন্দি।

শাড়িটির আঁচল ও পাড়জুড়ে ছিল প্রশস্ত জরদৌসি কারুকাজ। সূক্ষ্ম সুতার কাজের সঙ্গে ধাতব আভা পুরো শাড়িতে এনে দিয়েছে রাজকীয় আবহ। টিস্যু কাপড়ের স্বাভাবিক ঝিলিক আলোয় আলিয়ার সাজকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

শাড়ির সঙ্গে প্রচলিত ব্লাউজের বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন আধুনিক গড়নের কাঁধখোলা কাঠামোবদ্ধ ব্লাউজ। শরীরের গড়নকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা এই নকশাই পোশাকটিকে দিয়েছে সমকালীন ছোঁয়া।

আলিয়ার সাজের আরেকটি আকর্ষণ ছিল তার গয়না। গলায় কোনো হার না পরে তিনি পুরো মনোযোগ দিয়েছেন কানের দুলে। অপালা বাই সুমিতের বড় আকারের ঝুমকা কানে এনে দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় আবহ। রুপালি ও সোনালি আভা এবং মুক্তার কারুকাজে তৈরি দুলটি তার মুখের সৌন্দর্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

হাতেও ছিল সাজের সঙ্গে মানানসই ভারী চুড়ির সমাহার। এ জুয়েলস বাই অনমলের একাধিক চুড়ি একসঙ্গে পরে তৈরি করেছেন আকর্ষণীয় চুড়ির সাজ। আঙুলে থাকা বড় আকারের আংটিও পুরো সাজে যোগ করেছে বাড়তি জৌলুশ।

তবে আলিয়ার সৌন্দর্যসাজ ছিল একেবারেই মেপে নেওয়া। মুখে ছিল স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা, চোখে হালকা কাজলের ছোঁয়া, গালে নরম আভা আর ঠোঁটে বাদামি-নগ্ন রঙের লিপস্টিক।

চুলও রাখা হয়েছিল খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। মাঝখানে সিঁথি করে খোলা চুলে রাখা হয়েছিল নরম ঢেউ ও হালকা ভলিউম। ফলে শাড়ির ভারী কারুকাজের মাঝেও আলিয়ার পুরো সাজে রয়ে গেছে কোমলতা।

অন্যদিকে আলিয়ার হালকা রঙের সাজের বিপরীতে রণবীর কাপুর বেছে নিয়েছিলেন গাঢ় নীলের রাজকীয় লুক। ডলি জে স্টুডিওর তৈরি বুন্দি সেটে তাকে দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন মেজাজে। গাঢ় নীল কুর্তার সঙ্গে ছিল একই রঙের স্লিভলেস বুন্দি বা কোটি। কুর্তার হাতায় ছোট ছোট বুটি এবং নিচের অংশে সূক্ষ্ম কারুকাজ পোশাকে এনেছিল পরিমিত আভিজাত্য।

বুন্দি জ্যাকেটটিই ছিল রণবীরের সাজের মূল আকর্ষণ। গাঢ় নীল কাপড়ের ওপর হালকা প্যাস্টেল শেডের সুতা দিয়ে করা ফুল-পাতার হ্যান্ড এমব্রয়ডারি পোশাটিকে দিয়েছে রাজকীয় অথচ নরম এক সৌন্দর্য। নিচে সাদা বা অফ-হোয়াইট সোজা কাটের পায়জামা বা ট্রাউজার বেছে নেওয়ায় নীল বুন্দির কারুকাজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আলিয়ার সি-ফোম সবুজের কোমলতা আর রণবীরের গাঢ় নীলের আভিজাত্য-দুই বিপরীত রঙের এই যুগলবন্দিই তাদের উপস্থিতিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। একজনের সাজে নরম আলো, অন্যজনের পোশাকে গভীর রাজকীয়তা-তবু দুজনের লুকেই ছিল ভারতীয় ঐতিহ্যের ছাপ।

আলিয়া-রণবীরের এই উৎসবের সাজ আবারও দেখিয়ে দিল, নজর কাড়তে সবসময় অতিরিক্ত জাঁকজমকের প্রয়োজন হয় না। সঠিক রং, নিখুঁত কারুকাজ, মেপে নেওয়া গয়না এবং স্বাভাবিক সৌন্দর্য-এই কয়েকটি উপাদানেই তৈরি হতে পারে এমন এক সাজ, যা ক্যামেরার ফ্ল্যাশ পেরিয়েও মনে থেকে যায়।
এসএকেওয়াই


