কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ ডাকসুর

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মিষ্টি বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্ক...

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মিষ্টি বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের (জুবায়ের বিন নেসারী) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেন। এসময় শিক্ষার্থী, পথচারী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক।

রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

যেভাবে শুরু হয় বিচার

মামলাটির তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

পরবর্তী সময়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ বিভিন্ন ধাপের শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।

এরপর ৪ আগস্ট থেকে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ১৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।

আরটি/এমকেআর

Original Source
https://www.jagonews24.com/education/news/1157508
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World