নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে সহযোগিতা করছে মুন অ্যালার্ট
সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে চোখ রাখতেই নজরে আসে একটি জরুরি নিখোঁজ সংবাদ। শিশুটির নাম আয়শা সিদ্দিকা, বয়স ২ বছর। ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় কাশিমপুর থানার ২ নং ওয়ার্ডের দেওয়ান ফ্যাশন গার্মেন্টস মামুননগর এলাকা থেকে আয়শা সিদ্দিকা অপহরণের শিকার হয়।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় একটি বোরকা পরিহিত নারী আয়শা সিদ্দিকাকে দোকানের সামনে থেকে সাথে করে নিয়ে যায়। তারপর থেকে শিশুটির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিশুটির পিঠে একটি কালো জন্মদাগ ছিল এবং পরনে একটি প্যান্ট ছিল। আপনার কাছে কোনো তথ্য থাকলে ফোন করুন: ১৩২১৯ (টোল-ফ্রি)।
এভাবেই প্রতিদিন কোনো না কোনো শিশু হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের খুঁজতে বিভিন্ন মাধ্যমের শরণাপন্ন হচ্ছেন অভিভাবকরা। তাই তো হারিয়ে যাওয়া শিশুকে খুঁজে দিতে পাশে দাঁড়াচ্ছে মুন অ্যালার্ট। তাদের ফেসবুক পেজে পোস্টের মাধ্যমে সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে জরুরি তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মুন অ্যালার্টের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর রাইড শেয়ারিং সেবা প্রতিষ্ঠান পাঠাও লিমিটেড।
সংগঠনটি জানায়, মুন অ্যালার্টের নামকরণ করা হয়েছে ২০২৪ সালে সিলেটে নিখোঁজ হওয়ার পর নিহত শিশু মুনতাহার স্মরণে। উদ্যোগটি অলাভজনক ও সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে জনসচেতনতা ও দ্রুত তথ্যপ্রবাহে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে পাওয়া যাচাইকৃত ও জরুরি নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত তথ্য পাঠাও অ্যাপের বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পাঠাওয়ের অ্যাপ ব্যবহারকারী ও রাইডারদের কাছে নিখোঁজ শিশুর ছবি, পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।
নিখোঁজের পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা শিশুকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে তথ্য যত দ্রুত সম্ভব বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো গেলে শিশুটিকে শনাক্ত করার সম্ভাবনা বাড়ে। পাঠাওয়ের বিস্তৃত ব্যবহারকারী ও রাইডার নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে মুন অ্যালার্টের জরুরি সতর্কবার্তা দ্রুত বিভিন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
মুন অ্যালার্ট থেকে কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়ার জরুরি তথ্য পাওয়ার পর তা পাঠাও অ্যাপের নির্ধারিত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করা হয়। শিশু উদ্ধার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সতর্কতাটি অ্যাপ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে ব্যবহারকারীদের কাছে পুরোনো বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য প্রচার না হয়।
জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান বলেন, ‘একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, শিশুটিকে খুঁজে বের করার সম্ভাবনাও তত বাড়ে। নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এই উদ্যোগে পাঠাও বিনামূল্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য আমরা তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় মুন অ্যালার্ট নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে জরুরি সতর্কতা ও তথ্য প্রচারের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে জরুরি সহায়তা ও তথ্য জানাতে মুন অ্যালার্টের ২৪ ঘণ্টার টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ এবং ওয়েব পোর্টাল munalert.org চালু আছে।’
এসইউ




