১৩৪ প্রার্থীর সুপারিশের নির্দেশ ও বিধিবহির্ভূত সুপারিশ বাতিলে রুল
৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় সব ধাপে উত্তীর্ণ হয়েও নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ থেকে বঞ্চিত ১৩৪ প্রার্থীর সুপারিশের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার ফলাফলে বিধিবহির্ভূতভাবে যেসব প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের সুপারিশ বাতিল করে বিধি অনুযায়ী রিট আবেদনকারীদের সুপারিশ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রুলে ৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার ফলাফলে বিধিবহির্ভূতভাবে সুপারিশ করা প্রার্থীদের সুপারিশ বাতিল করে নিয়ম অনুযায়ী রিট আবেদনকারীদের সুপারিশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল।
৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ থেকে বঞ্চিত মো. ওবায়দুল ইসলামসহ ১৩৪ জন প্রার্থীর করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল জারি করা হয়।
রিটে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পিএসসির সচিব এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে (ক্যাডার) বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীরা ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২১-এর প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—সব ধাপে উত্তীর্ণ হয়ে নন-ক্যাডার পদের জন্য পছন্দক্রম দাখিল করেন। কিন্তু গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত নন-ক্যাডার ফলাফলে ঘোষিত ৪ হাজার ১৩৬টি শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৫৮ জনকে সুপারিশ করা হয়।
এতে ৪ হাজার ১৮১ জন যোগ্য প্রার্থী, যার মধ্যে রিট আবেদনকারীরাও রয়েছেন, অপেক্ষমাণ তালিকায় থেকে যান। ফলে ১ হাজার ১৭৮টি পদ শূন্য থেকে যায় বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, পিএসসির ২০২৩ সালের ১০ম বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত এবং ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নন-ক্যাডার চয়েস সার্কুলারের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী এরই মধ্যে ক্যাডার পদে বা উচ্চতর গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে তাকে নিম্নতর নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করার সুযোগ নেই। ৪৩তম বিসিএসেও এ বিধান অনুসরণ করা হয়েছিল।
তবে কোনো ব্যাখ্যা বা বিধি সংশোধন ছাড়াই ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ও ১২ ডিসেম্বর প্রকাশিত নন-ক্যাডার পছন্দক্রম-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি থেকে ওই বিধানটি বাদ দেওয়া হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, এর ফলে এরই মধ্যে সুপারিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পুনরায় নন-ক্যাডার পদে সুপারিশের তালিকায় স্থান পান। এতে যোগ্য প্রার্থীরা তাদের ন্যায্য সুপারিশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রিটে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৩ আগস্ট পিএসসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সংক্ষুব্ধ হয়ে সংবিধানের ১০২ ও ৪৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, বিধিবহির্ভূতভাবে বহু সংখ্যক প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করায় রিট আবেদনকারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আশা করি, আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে ন্যায়বিচার করবেন।
এফএইচ/এমকেআর



