চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে

Direct Source Verification: This story is aggregated from Jago News 24 (jagonews24.com). Full reporting rights and copyright belong to the primary publisher.
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়...

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। দলের পক্ষে বিবৃতিটি পাঠান দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

এনসিপি নেতারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পর নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য, এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাবো না।’ এই বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসিত ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তাদের অভিযোগ, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ হিসেবে মেনে নেওয়া কমিশনের স্বাধীন ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকারের প্রভাব ও চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। এতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম নিশ্চয়তাও নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা ক্ষমতার লালসা ও অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ।

এনসিপি আরও অভিযোগ করে, সরকার দলের নির্বাচনি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলটি বলেছে, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সরকারি প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি নির্বাহী বিভাগের সামনে নতি স্বীকার করে কমিশনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার মতো অবস্থানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

বিবৃতিতে দলটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনো ‘মেরুদণ্ডহীন’ ও সরকারি ক্যাডারতন্ত্রের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন জনগণ মেনে নেবে না। সরকার যদি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দেয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালিত করার পথে এগোয়, তাহলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এনএস/এমআইএইচএস/

Original Source
https://www.jagonews24.com/national/news/1157557
Visit Jago News 24 ↗
SHARE STORY:
𝕏 f in

Related Coverage in World