ডুলির চোখে বাংলাদেশ দলে বড় সংকট ‘স্ট্রাইকার’
বাংলাদেশ ফুটবলের বাস্তবতা বদলাতে শুধু ভালো খেলোয়াড় কিংবা বড় নাম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত প্রতিযোগিতা, নির্দিষ্ট পজিশনে খেলোয়াড় তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি। জাতীয় দলের বর্তমান প্রস্তুতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কোচ টমাস ডুলির কথায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের ফুটবলের সেই পুরোনো সমস্যাগুলোই।
ফিটনেস ঘাটতি, প্রকৃত ৯ নম্বরের অভাব এবং নতুনদের পরিণত হওয়ার অপেক্ষা-সব মিলিয়ে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমেকে এ কথা বলেছেন এই কোচ।
সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রায় দুই মাস প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে ছিলেন স্থানীয় খেলোয়াড়েরা। নিজেদের উদ্যোগে অনুশীলন করলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাচ ফিটনেস ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ডুলির পরিকল্পনায় তাই ম্যাচের চার সপ্তাহ আগে থেকেই দিনে দুই বেলা অনুশীলন শুরু হয়।
কিন্তু সেই বাড়তি চাপের মূল্যও দিতে হয়েছে। কয়েকজনের পেশিতে টান ধরেছে, কেউ কেউ অসুস্থ হয়েছেন। জামাল ভূঁইয়াকে হালকা পেশির চোটে কয়েক দিনের বিশ্রামে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা বিশ্বনাথ ঘোষকে নিয়ে। অনুশীলনে সর্বোচ্চটা দিতে গিয়ে চোট পেয়ে চার সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেছেন তিনি।
বাংলাদেশের ফুটবলে স্ট্রাইকার সংকটের কারণও স্পষ্ট করে বলেছেন ডুলি, ‘ক্লাবগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ৯ নম্বর পজিশনে বিদেশিদের খেলানো হয় বেশি। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন স্ট্রাইকার তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। জাতীয় দলে যার প্রভাব পড়ছে সরাসরি। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় সংকট এটাই।’
নতুনদের মধ্যে জায়ান আহমেদকে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন ডুলি। উচ্চতা ও শারীরিক গঠন তাকে আকাশে বল দখলে বাড়তি সুবিধা দেয়। তবে নিজ অর্ধ থেকে আক্রমণ তৈরির সময় কিছু অপরিণত সিদ্ধান্ত তার খেলায় দেখা যাচ্ছে।
ইংল্যান্ড থেকে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়েও অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখার বার্তা দিয়েছেন ডুলি, ‘তারা প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড় নন; ইংল্যান্ডের নিচের স্তরের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার ওপর বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বড় পরীক্ষা।’
ফারহান আলি ওয়াহিদ সম্পর্কে ডুলির মূল্যায়ন, ‘সে গোলমুখে কার্যকর হলেও মাত্র কয়েক মিনিট খেললে তার সামর্থ্য পুরোপুরি কাজে লাগবে না। তাই তাকে নতুন ‘হামজা’ বা দলের ত্রাণকর্তা বানানোর চেয়ে স্বাভাবিকভাবে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ দেওয়াই ভালো।’
আসিয়ান কাপ শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। ডুলির চোখে এটি বাংলাদেশের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো শুধরে নেওয়ার আরেকটি ধাপ। তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অভিজ্ঞ ও প্রস্তুত একটি দল নিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে নামা।’
আরআই/এমএমআর


