‘মেয়েদের পাঠান, নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের’ বোলার হান্ট উদ্বোধনে তামিম
রবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যৌথ উদ্যোগে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বোলিং হান্ট শুরু হচ্ছে। দেশব্যাপী নারী পুরুষ উভয় বিভাগে পেসার ও স্পিনাররা এই হান্টে অংশ নিতে পারবেন।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারের হান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। সেখানে নিজের বক্তব্যে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ক্রিকেটে আগ্রহী মেয়েদের বোলার হান্টে অংশ নিতে অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, মেয়েদের জন্য আলাদা কোচিং প্যানেলের পাশাপাশি নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় দেখভালের দায়িত্ব নেবে রবি ও বিসিবি।
বোলার হান্টের নতুন আয়োজন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমি বাবা-মা, ভাই-বোনসহ সবার কাছে অনুরোধ করতে চাই, নিরাপত্তা বা এ ধরনের বিষয় নিয়ে আপনারা চিন্তিত হবেন না। আপনার বাসার মেয়েদের, বাচ্চাদের অবশ্যই পাঠাবেন। তাদের যদি ক্রিকেটে আগ্রহ থাকে, তারা আসবে, খেলবে। তাদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সবকিছুর দায়িত্ব আমাদের। বিসিবির পক্ষ থেকে রবি আছে, আমরা তাদের দেখভাল করব।’
এবার ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও বোলার হান্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তামিম জানান, দুই বিভাগে আলাদা কোচিং প্যানেল থাকবে। শুধু ফাস্ট বোলার নয়, যেকোনো ধরনের বোলারই এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তামিম বলেন, ‘যখন আমরা বিষয়টি নিয়ে বসি, তখন আমরা ‘বোলার হান্ট’ নামটি দিতে চেয়েছি। কারণ, এটি শুধু ফাস্ট বোলারদের নিয়ে নয়। এখানে একজন স্পিনার হতে পারে, একজন মিস্ট্রি স্পিনার হতে পারে কিংবা যেকোনো ধরনের বোলার হতে পারে।’
ক্রিকেটে সাধারণ দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হলেও বোলার হান্টে তেমন কোনো শর্ত রাখা হয়নি বলেও জানান তামিম। যে কেউ এসে নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পাবেন।
তার ভাষায়, ‘এই প্রোগ্রামের সৌন্দর্যই হলো-এখানে কোনো মানদণ্ড নেই, কোনো শর্ত নেই। যে কেউ এসে অংশ নিতে পারে। এটাই এই ক্যাম্পেইনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।’
বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিংয়ে রবির অবদানের কথাও তুলে ধরেন তামিম। তার দাবি, একসময় বাংলাদেশ শুধু নামের জন্য একজন পেসার নিয়ে খেলতো। সেই পরিস্থিতিতে রবি পেস বোলিং হান্ট আয়োজন করে ভিন্ন বার্তা দিয়েছিল।
তামিম বলেন, ‘রবি স্রোতে গা ভাসায়নি, বরং স্রোতের বিপরীতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। এ কারণেই আমি বলি, বাংলাদেশ ক্রিকেটে এবং দেশে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপ্লবের পেছনে রবির অবদান অনেক বড়।’
প্রায় সাত-আট বছর এই ধরনের কার্যক্রম না হওয়াকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যর্থতা হিসেবেও দেখছেন তামিম। একই সঙ্গে আগের দুই আয়োজন থেকে রিশাদ হোসেন ও এবাদত হোসেনের মতো ক্রিকেটার উঠে আসার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বোলার হান্ট থেকেও ভবিষ্যতের ক্রিকেটার পাওয়া যাবে।
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী, এই ক্যাম্প বা বোলার হান্ট থেকে হয়তো আমরা আরও চার-পাঁচজন ক্রিকেটার পাব, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যভাবে অবদান রাখবে।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তামিম। সুযোগ পেলেই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং তাদের উৎসাহ দেবেন।
এসকেডি/এমএমআর


